kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

গর্ভবতী নারীরা আরামে ঘুমান এসব নিয়ম মেনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভবতী নারীরা আরামে ঘুমান এসব নিয়ম মেনে

গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থার শুরুতেই যে সমস্যাটি অনুভব করেন, তা হলো ঘুম না হওয়া। প্রথম তিন মাস ভালো ঘুম না হওয়ার প্রধান কারণ হরমোন। রাতে বার বার প্রস্রাবের বেগ আসে বলেও সমস্যা হয়। তার উপর ক্লান্তি এত বাড়ে যে না ঘুমালে শরীর আর পেরে ওঠে না। মাঝের তিন মাস কষ্ট তুলনায় কম হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বাড়ে। শেষের তিন মাস শরীর বেশি ভারী হয়ে যায় বলে কী ভাবে শুলে আরাম হবে তা বোঝাও যায় না সব সময়।

সাধারণ অবস্থায় সারা রাত জাগলেই পরের দিনের কাজে যেমন তার প্রভাব পড়ে। গর্ভাবস্থায় এই না ঘুম হওয়া শুধু হবু মায়ের নয়, গর্ভস্থ সন্তানেরও ক্ষতি করে। অনেকেই এই সময় ঘুম আনতে খুব হালকা কিছু ঘুমের ওষুধ খান, যদিও এই কাজ যত দ্রুত বর্জন করতে পারবেন, ততই ভাল। এমন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি কিছু মূল নিয়ম মেনে চললে রাতে ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

• সন্ধ্যার পর থেকে চা-কফি-কোল্ড ড্রিংকস খাবেন না।

• রাতে ঘুমানোর ঘণ্টা দুয়েক আগে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হালকা খাবার খান। এতে রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক থাকে বলে সমস্যা কম হয়।

• ঘুমানোর আগে গরম দুধ খেলে শরীরে ট্রিপটোফান নামে অ্যামিনো অ্যাসিড ক্ষরিত হয়ে ঘুম নিয়ে আসে। ওটমিল, বিস্কুট ও কলাও খেতে পারেন। এতে মেলাটোনিন ও সেরেটোনিন হরমোনের প্রভাবে চটপট ঘুম আসবে। তাছাড়া এর প্রভাবে রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক থাকে বলেও কাজ হয় সহজে।

• মানসিক চাপ কমাতে শোওয়ার আগে গরম পানিতে স্নান করে হালকা বই পড়ুন বা গান শুনুন। ডিপ ব্রিদিং, যোগা, মেডিটেশন করুন নিয়মিত। ম্যাসাজ করালেও শরীর ও মন হালকা হয়ে যাবে।

• কোনো কারণে মনে অশান্তি দানা বাঁধলে যুক্তি দিয়ে তাকে কাটাছেঁড়া করুন। প্রয়োজনে কারও সঙ্গে আলোচনা করুন। সমাধান হলে তবে শুতে যান। না হলে দুশ্চিন্তার চোটে ঘুম বরবাদ হবে। আর এই সময় বাড়তি দুশ্চিন্তা শরীরের পক্ষে সুখকর নয়।

• সকালে বা বিকালে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো হালকা ব্যায়াম করুন। শোওয়ার আগে ঘণ্টা চারেকের মধ্যে করবেন না।

• কোলবালিশ জড়িয়ে পাশ ফিরে ঘুমান। প্রয়োজন পড়লে পেটের নীচে একটা বালিশ রাখুন। একটা রাখুন পিঠে হেলান দিয়ে।

• ৬ মাসের পর থেকে শরীর ভারী হওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাথার নীচে ২-৩টি বালিশ দিয়ে আধশোওয়ার মতো করে ঘুমালে আরাম পাবেন। শিশুও ভালো থাকবে।

• যত অসুবিধাই হোক, ঘুমের ওষুধ খাবেন না। কারণ কম ঘুমালে সন্তানের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু ঘুমের ওষুধে হতে পারে। তবে বাড়াবাড়ি হলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে পারেন।

• হরমোনের পরিবর্তন ও উদ্বেগের ফলে ভয়ের স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যাওয়া এ সময় খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। সমস্যা কমাতে কাছের মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখতে পারেন। তাদের সহযোগিতা পেলে সমস্যা কমবে। তার পাশাপাশি গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়ে ভাবুন গভীর ভাবে। তাকে অনুভব করার চেষ্টা করুন, ভালো থাকতে পারবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা