kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

‘শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি, জ্বর কত হচ্ছে তা খেয়াল রাখা’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ জুলাই, ২০১৯ ১০:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি, জ্বর কত হচ্ছে তা খেয়াল রাখা’

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হচ্ছে শিশু। এরা বড়দের মতো সচেতন নয়, সতর্ক নয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিশুদের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষায় প্রথমে অভিভাবকদেরই দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের যেন মশায় না কামড়ায় অভিভাবকদের প্রথমে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরে বা ঘরের আশপাশের মশার উৎস ধ্বংস করতে হবে। অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে দিনেও মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে।

চারদিকে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, এ সময়ে শিশুর জ্বর এলে প্রথমেই ডেঙ্গু বলে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আগে উপসর্গগুলো দেখতে হবে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি, জ্বর কত হচ্ছে, তা খেয়াল রাখা। তারপর জ্বর নিয়েও শিশুটির স্বাভাবিক চঞ্চলতা আছে কি না, নাকি নেতিয়ে পড়ছে, ঝিমুনি হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। খাওয়াদাওয়া কেমন করছে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হচ্ছে নাকি কমে গেছে, সেটাও দেখতে হবে। যদি জ্বরের সঙ্গে কিংবা জ্বরের পর স্বাভাবিক চঞ্চলতা না থাকে, নেতিয়ে থাকা ভাব দেখা যায় এবং প্রস্রাব কমে যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ব্যবস্থা চলবে। আমাদের কাছে প্রতিদিন যত শিশুকে নিয়ে আসা হচ্ছে তার বড় অংশই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নয়। তার মানে অনেকে আতঙ্ক থেকে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে আসছে। অভিভাবকরা একটু সচেতন থাকলে অযথা হাসপাতালে দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই।

সাধারণ ডেঙ্গু হলে বাসায় রেখেই পরিমিত পরিমাণে লেবুর শরবত, পানিসহ অন্য সব স্বাভাবিক খাবার খেতে দিতে হবে। অতিরিক্ত শরবত কিংবা পানি খাওয়ালে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালে থাকা শিশুদের প্রতিও সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো শিশুকে এডিস মশা কামড়ে পরে অন্য রোগে আক্রান্ত কোনো শিশুকে আবার কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গু প্রবেশ করবে। টাইফয়েড কিংবা নিউমোনিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গুও দেখা যাচ্ছে। তাই হাসপাতালে প্রতিটি শিশুর জন্য মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা শিশু হাসপাতাল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা