kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

মশা মারার নানা ধরনের যন্ত্র

কেনাকাটা

আতিফ আতাউর   

২৯ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মশা মারার নানা ধরনের যন্ত্র

মশা তাড়ানোর জন্য এখন বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।

মসকিটো কিলার ব্যাট

বাজারে মশা মারার জন্য র‌্যাকেট ব্যাটের মতো দেখতে এক ধরনের ইলেকট্রিক ব্যাট বেশ জনপ্রিয়। এতে বৈদ্যুতিক চার্জ সংরক্ষণ করা যায়। তবে কেনার আগে দেখে নিতে হবে ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী কি না। সস্তা মসকিটো ব্যাট কিছুদিন ব্যবহারের পর নষ্ট হয়ে যায়। থাকে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার

বাজারে নানা ধরনের ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার পাওয়া যায়। ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার ব্যবহারের সুবিধা হলো, এতে শুধু মশা নয়, যেকোনো পোকামাকড় ধ্বংস করা যায়। ইলেকট্রিক মসকিটো কিলারগুলো কোনো ধোঁয়া তৈরি করে না। ভেতরে এক থেকে দুটি বাতি থাকে। বাতির চারপাশে ঘিরে থাকে প্যাঁচানো তারের তৈরি মশা মারার ইলেকট্রিক কয়েল বা কুণ্ডলী।

ইলেকট্রিক বাল্ব

এই যন্ত্রের মধ্যে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। মানুষের উপস্থিতি টের পেলে যেভাবে মশা আক্রমণ করে, ঠিক সেভাবে এই রাসায়নিকের টানে মশা যন্ত্রটির সংস্পর্শে আসে। যন্ত্রে পাঁচ ওয়াটের বৈদ্যুতিক বাল্ব থাকে। যন্ত্রটি চালুর পর ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে মশা নিধন শুরু করে। দুই হাজার বর্গফুটে থাকা সব মশা এই যন্ত্রে আকৃষ্ট হয়। বিদ্যুত্ ছাড়াও ব্যাটারির সাহায্যে চালানো যায় যন্ত্রটি। একই রকম কাজ করে এ রকম ইলেকট্রিক টেবিল ল্যাম্পও কিনতে পারেন আপনি।

ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার ট্র্যাপ

একজস্ট ফ্যানের মতোই দেখতে এই ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার ট্র্যাপ। ঘরে থাকা মশা যন্ত্রটিতে থাকা আলোর টানে ছুটে যায়। যন্ত্রের কাছাকাছি আসতেই ফ্যানের বাতাস ভেতরে টেনে নেয় মশাদের।

ইলেকট্রিক কয়েল

মশা তাড়ানোর জন্য এখন ইলেকট্রিক কয়েল কিনতে পাওয়া যায় দোকানে। সকেটে লাগিয়ে দিয়ে সুইচ চেপে দিলেই কাজ শুরু করে। নাম ইলেকট্রিক কয়েল হলেও এর ভেতরে আদতে কোনো কয়েল নেই। বৈদ্যুতিক সংযোগ পাওয়ার পর মেশিনটিতে লাল, নীলসহ বিভিন্ন আলো জ্বলতে শুরু করে। এই আলোর টানে মেশিনের কাছে ছুটে এসে মারা পড়ে মশা।

মসকিটো রিপেলার মেশিন

এ যন্ত্রে এক ধরনের আল্ট্রাসাউন্ড উত্পন্ন হয়, যা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না; কিন্তু মশা নিধন হয়। এই শব্দে মশার শরীরে কম্পন তৈরি হয় বলে তারা আর নির্দিষ্ট স্থানে ঘেঁষতে চায় না। বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করতে হয়। তবে বিদ্যুত্ ছাড়াও ব্যাটারির সাহায্যে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চালানো যায় মসকিটো রিপেলার মেশিন। চালু করার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর মশা পালাতে শুরু করে। যন্ত্রটি ঘরের দরজা-জানালা খোলা বা বন্ধ সব অবস্থায়ই সমানভাবে কার্যকর। সুবিধা হলো এতে কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল নেই।

বাষ্পীয় ডিভাইস

বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারে তৈরি এসব ডিভাইস। এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি যন্ত্র, যাতে রিফিলপ্যাকও ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসে থাকা স্লাইডার দিয়ে কী পরিমাণ তরল বাষ্পীভূত করতে হবে তাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উত্পন্ন বাষ্প পাত্রের ওপরের ছোট আয়তক্ষেত্রাকার বা গোলাকার খোলা অংশের মাধ্যমে বাইরে ছড়ায়।


কোথায় পাবেন, কেমন দাম

মসকিটো কিলার ব্যাট ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, ইলেকট্রিক বাল্ব ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার ট্র্যাপ ৯০০ থেকে ১৮০০ টাকা, ইলেকট্রিক কয়েল ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং বাষ্পীয় ডিভাইস ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট, গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ১ ও ২-এ কিনতে পাবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন শপেও ঢু মারতে পারেন।

ব্যবহারের আগে-পরে

ইলেকট্রিক মসকিটো কিলার কিংবা যা-ই ব্যবহার করুন না কেন এগুলো রাখার জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন করুন। একদিন এখানে তো আরেক দিন ওখানে ব্যবহার করতে যাবেন না। মসকিটো কিলারের ইলেকট্রিক সংযোগের স্থান বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখুন। বেশি ভালো ফল পাওয়ার আশায় কখনো শরীরের কাছাকাছি মসকিটো কিলার ব্যবহার করবেন না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা