kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

নিজের অঙ্গে অন্যের জীবন বাঁচানোর তিন নজির এক দিনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিজের অঙ্গে অন্যের জীবন বাঁচানোর তিন নজির এক দিনে

অঙ্গদান করাতে সচেতনতা বাড়ছে পৃথিবী ব্যাপী। নিজেদের প্রয়োজনে অথবা অন্যেরে প্রয়োজনে অনেকেই নিজের অঙ্গদান করে থাকেন। তবে পূর্ব ভারতে এই প্রথম ঘটল এমন ঘটনা। এই প্রথম কোনো হাসপাতালে একই সঙ্গে পরপর তিনটি কিডনি প্রতিস্থাপন হল। মঙ্গলবার এই প্রথম পরপর পাঁচটি ওটি ব্যবহার করে তিন জনের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল ভারতের অ্যাপোলো গ্লেনেগ্লেস হাসপাতাল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পার্ক ক্লিনিকে ব্রেন ডেথ হওয়া যুবক চিন্ময় ঘোষের একটি কিডনি আনা হয় অ্যাপোলোয়। হাসপাতাল জানিয়েছে, তার কিডনি বসানো হচ্ছে ৫৬ বছরের এক ব্যক্তির দেহে। কিডনির ক্রনিক অসুখে অনেক দিন ধরে ভুগছিলেন তিনি। ডক্টর মণীশ কুমার জৈন এবং ডক্টর মোহন শীলের তত্ত্বাবধানে তার কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে অ্যাপোলোতে। অন্য দু’টি লাইভ ট্রান্সপ্লান্ট। অর্থাৎ কোনো মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে পাওয়া কিডনি নয়, ওই হাসপাতালেই জীবিত কোনো দাতার থেকে কিডনি নিয়ে তা বসানো হয়েছে গ্রহীতার শরীরে। দ্বিতীয় প্রতিস্থাপনের ঘটনায় দাতা এবং গ্রহীতা দু’জনেই এসেছেন মায়ানমার থেকে। ২১ বছরের যুবকের দেহ থেকে কিডনি নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয় ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির দেহে। ডক্টর বিনয় মহিন্দ্রার গাইডেন্সে হবে এই অস্ত্রোপচার। ছিলেন মণীশ কুমার জৈন-ও।

তৃতীয় অস্ত্রপচারের দাতা উত্তর ২৪ পরগনার ২৮ বছরের এক তরুণী। গ্রহীতা ৪৩ বছরের এক ব্যক্তি, কলকাতারই বাসিন্দা। ডক্টর মণীশ কুমার জৈন এবং ডক্টর মোহন শীলের তত্ত্বাবধানেই হয়েছে এই অস্ত্রোপচারটিও।

অ্যাপোলো হাসপাতালের সিইও রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, সমসাময়িক চিকিৎসা থেকে অনেকটা এগিয়ে থেকে, পূর্ব ভারতে অঙ্গদানের এই নজির গড়তে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। এক দিনে তিনটি কিডনি প্রতিস্থাপনই সফল ভাবে হয়েছে। দাতাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। স্বাস্থ্য ভবনকে আমাদের ধন্যবাদ। গ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে আপাতত।

চিকিৎসকেরা বলছেন, অঙ্গদান নিয়ে যে সচেতনতা বাড়ছে, তার প্রমাণ এই ঘটনা। একই দিনে ব্রেন ডেথ হওয়া ব্যক্তির কিডনি ছাড়াও আরও দু’জন কিডনি দিচ্ছেন– এই ঘটনা বিরলতম। অঙ্গের অভাবে বহু মানুষের প্রাণ অকালে ফুরিয়ে যায়। এভাবে সকলে সচেতন হলে, এগিয়ে এলে এই সমস্যা এড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা