kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

হতে হবে চেঞ্জমেকার

মোস্তফা কামাল   

৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হতে হবে চেঞ্জমেকার

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

প্রতিটি মানুষই প্রতিভাবান। কারো প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কারো প্রতিভা দ্রুতই বিকশিত হয়। সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে হয় কাজের মধ্য দিয়ে। প্রতিভা আছে কিন্তু সে কিছু করে না; তাহলে প্রতিভার বিকাশ হবে কিভাবে?

আমি অনেক প্রতিভাবান মানুষকে চিনি; যারা অবহেলা ও উদ্যোগের অভাবে জীবনে কিছুই করতে পারেননি। আমার অনেক কম প্রতিভার মানুষকেও চিনি, যারা যথাযথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে জীবনে অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। কাজেই ছাত্রজীবন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তোমার লক্ষ্য কী? তুমি কী হতে চাও? কত বড় স্বপ্ন তুমি দেখতে পারো তার ওপর তোমার ভবিষ্যত নির্ভর করছে। যদি কেরানি হতে চাও, তাহলে কেরানিই হবে। যদি নেতা হতে চাও নেতা হবে। আর যদি চেঞ্জমেকার হতে চাও, চেঞ্জমেকারই হবে। 

জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে না পারলে কখনোই বড় কোনো জায়গায় যাওয়া যায় না। বড় কিছু হওয়া যায় না। বড় কিছু হতে হলে বড় চিন্তা, বড় স্বপ্ন, বড় আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। এমন কিছু করতে হবে যা অন্যের জন্য শিক্ষনীয় হয়। সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। 

আমরা অনেকেই পলান সরকারের নাম জানি। তিনি কী করতেন? তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষকে বই পড়াতেন। শিক্ষার আলো ছড়াতেন। এই কাজটি তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে করতেন। এক সময় তিনিই হয়ে ওঠেন আমাদের চেঞ্জমেকার। কিন্তু কাজটা কি খুব বড় ছিল? তা তো নয়। অথচ তিনি আন্তরিকতা দিয়ে কাজটাকে বড় করে তোলেন।
 
পাকিস্তানের ছোট্ট মেয়ে মালালার নাম কে না জানে? এক স্কুল ছাত্রী নোবেল পুরস্কার পেতে পারে এটা কি চিন্তা করা যায়! মালালা স্কুল জীবনেই পেয়ে গেলো নোবেল পুরস্কার! সেই পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সে যে কাজটা করেছে সেটা নিশ্চয়ই ছোট নয়। অনেক বড়। প্রতিবাদী মালালা পাকিস্তানের ঘুণে ধরা সমাজকে একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। নারী স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। সে হয়ে উঠেছে চেঞ্জমেকার।
 
কেউ যদি চিন্তা করে পরিবেশ রক্ষার জন্য সে প্রতিদিন একটি করে গাছ লাগাবে। তাহলে এক বছরে কতটি গাছ হবে? ৩৬৫টি। পাঁচ বছরে কতটি হবে? ১৮২৫টি। দশ বছরে হবে ৩৬৫০টি। এই মানুষটিকে কি আমরা চেঞ্জমেকার বলব না?

আবার কেউ যদি চিন্তা করে, দেশের নদী রক্ষার জন্য কাজ করবে। হয়তো কাজটি শুরুতেই সহজ হবে না। কেউ গুরুত্বও দেবে না। কিন্তু একটা সময় দেখা যাবে তার কাজটি বড় কিছু হয়ে গেছে। তিনিও হয়ে উঠবেন চেঞ্জমেকার। ছোট থেকেই তো বড় হতে হয়। আর শুরুতে ছোটই থাকে। ধীরে ধীরে তা বড় হয়ে ওঠে। 

আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন। যারা অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেন। শুধু অসহায়কে খাদ্য কিংবা বাসস্থানের ব্যবস্থাই করেন না, তারা ঘরে ঘরে আলো ছড়ান। অসহায় সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করে তোলেন। যার যা সামর্থ্য আছে সে অনুযায়ী কাজ করলে আমাদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আর এই কাজ যারা করেন তারা হয়ে ওঠেন আমাদের সমাজের চেঞ্জমেকার। 

ছাত্র জীবন থেকেই কেউ যদি চিন্তা করে সে চাকরি করবে না, সে ব্যবসায়ী কিংবা বিজ্ঞানী হবে। তাহলে সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে হবে। অবশ্য লক্ষ্য স্থির থাকলে তাগিদটা নিজের ভেতরই তৈরি হয়। সত্যিকারের স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্নই তাকে তাড়িয়ে বেড়াবে। 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ। 

পড়ুন আগের কিস্তি...

হিংসা নয় কর্মেই উন্নতি 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা