kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

শিশুর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জুলাই, ২০১৯ ১৫:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাচ্চাদের স্থূলতা, দাঁত ও চোখের সমস্যার কারণে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়েছেন শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাচ্চাদের খাবারে মিষ্টির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি তাদের নির্ভরশীলতা তৈরির আগেই সবজি খাওয়ানো শুরু করা গেলে তা তাদের সুষম পুষ্টির যোগান দেবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের গবেষকেরা। এমনকি যেসব খাবারে 'বাড়তি চিনি যোগ করা হয়নি' বলে লেবেল লাগানো থাকে, সেসব খাবারও মধু কিংবা ফলের রসের মাধ্যমে মিষ্টি করা হয় বলে তারা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে শিশুরা দাঁত ক্ষয়, স্থূলতা বা মোটা হয়ে যাওয়া এবং অপুষ্টির হাত থেকে বেঁচে যাবে। সেই সঙ্গে স্থূলতা থেকে পরবর্তীতে ডায়াবেটিস হবার আশংকাও কমবে।

রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের গবেষকদের করা এক প্রতিবেদনে মূলত যুক্তরাজ্যের শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিবরণ দেয়া হলেও, বলা হয়েছে পুরো বিশ্বে শিশুদের প্রায় একই রকম অবস্থা।

চিকিৎসকেরা বলছেন ক্যান জাতীয় যেসব খাবার, সেসবে বাচ্চাদের অভ্যস্ত না করে বরং তাজা ফলমূল, মিষ্টি ছাড়া দুধ জাতীয় খাবারে বাচ্চাদের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর মেরি ফিউট্রেল বলছেন, বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানোর জন্য মা-বাবারা অনেক সময় মিষ্টি জাতীয় খাবারের অভ্যাস করান আর এই সময়েই মিষ্টি খাবারের আসক্তি হয় বাচ্চাদের।

‘দেখা যায় ফলের পিউরি বা মিশ্রণ ও তরল জাতীয় মিষ্টি খাবার দেয়া হয় বিকল্প হিসেবে। বাজারে প্রচলিত বাচ্চাদের প্যাকেটজাত এবং টিনজাত খাবারে হাই এনার্জি ও প্রচুর মিষ্টি থাকে। আর প্যাকেট বা বোতলের মুখ থেকে খেলে সে প্লেট ও চামচ বা হাত দিয়ে খাবার খাওয়াও শেখে না।’

গত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানী আর চিকিৎসকদের ক্রমাগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনি বা শর্করা। তাদের কাছে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে জনস্বাস্থ্যের এক নম্বর শত্রু। সরকার এর ওপর কর বসাচ্ছে। স্কুল আর হাসপাতালগুলো খাদ্যতালিকা থেকে একে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের খাবার থেকে চিনি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিতে। আমরা সবসময়ই শুনছি, যারা বেশি মিষ্টি খায় তাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

প্রফেসর ফিউট্রেল বলছেন, মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ থাকবেই। কিন্তু মা-বাবাদের খেয়াল করতে হবে কোন খাবার শিশুর জন্য ভালো। শিশুরা কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই নানা ধরনের খাবার খেয়ে দেখতে চায়, যদি তাদের সে সুযোগ দেয়া হয়। ফলে তাদের নানা রকম খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়াও খুব জরুরি।

চিকিৎসকেরা বলছেন, দুই বছর বয়সী একটি শিশু দিনে যেসব খাবার খাবে তার পাঁচ শতাংশের বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার হওয়া উচিত নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের একজন শিশু দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ মিষ্টি জাতীয় খাবার খায়।

এজন্য যত বেশি সম্ভব তাজা ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আর প্রচুর কায়িক শ্রম ও খেলাধুলার প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা