kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সঠিক খাবার ও ব্যায়াম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুন, ২০১৯ ১৮:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সঠিক খাবার ও ব্যায়াম

কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের কেন্দ্র আপনার হৃদযন্ত্র। আপনার দেহটায় জীবন ধরে রাখার জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে এই হৃৎপিণ্ড। কাজেই হৃদয়ের স্বাস্থ্য আপনাকে সুস্থ রাখার জন্য জরুরি। হার্টকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কাজের অথচ সাধারণ দুটো উপায় হলো খাবার ও ব্যায়াম। এখানে আপনার মনে আসার প্রশ্নগুলো ধরে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

খাবার কীভাবে হৃৎপিণ্ডকে প্রভাবিত করে? 
যে খাবার গ্রহণ করছেন তা ওজন, হরমোন এবং প্রত্যঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যরক্ষা করে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রও রয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাবারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে। তাই হৃদবান্ধব খাবার খেতে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলতে হবে। 

স্বাস্থ্যকর ফ্যাটা বাছাই: কিছু ফ্যাট কিন্তু আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যে খুবই ভালো। রান্নার জন্যে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার বাছাই করতে হবে। অলিভ ওয়েল, ক্যানোলা ওয়েল ইত্যাদি রান্নার তেল হিসেবে খুবই ভালো। পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড স্বাস্থ্যকর বাছাই। বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবারে প্রথমটি মেলে। আর দ্বিতীয়টি চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ থেকে পাওয়া যায়। তবে ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো থাকে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও স্ন্যাকস-এ। 

শস্যদানা: যেকোনো শস্যদানা থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার হৃৎপিণ্ডের জন্যে ভালো। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভক্ষণযোগ্য আঁশ এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট।

ফল ও সবজি: এদের নিয়ে নতুন করে বলার নেই। আঁশযুক্ত খাবার, ভিটামিন এবং খনিজ মেলে এসব খাবার থেকে। এগুলো দেহের জন্যে খুবই উপকারি। 

মাংসের স্বাস্থ্যকর রেসিপি: মাংস খেতে মানা করা হচ্ছে না। তবে তার স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করুন। একটা পদ্ধতি হলো, মাংসের বাইরের ফ্যাটকে গলিয়ে বের করে দেয়া। 

শীম জাতীয় খাবার: এদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। এতে থাকে প্রোটিন এবং ফাইবার। যেকোনো খাবারে ব্যবহার করা যায়। 

কম ফ্যাটের দুগ্ধজাত খাবার: দুধ. দই কিংবা পনিরের ক্ষেত্রে কম ফ্যাটযুক্তগুলো বেছে নিন। সপ্তাহে ৪টি ডিমের কুসুমের বেশি গ্রহণ করা উচিত হবে না। 

প্রোটিন: এই উপাদানপূর্ণ খাবার বেশি খাবেন। মাছ, কম চর্বির মাংস, চামড়াবিহীন পোল্ট্রি, ডিম, বাদাম এবং বীজ অনায়াসে খেতে পারেন।  

কী খাওয়া যাবে না? 
হার্ট সুস্থ রাখতে যে খাবারগুলো খাওয়া যাবে না তা জেনে নেয়া উচিত। 

সোডিয়াম: প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রচুর লবণ থাকে। এগুলো ত্যাগ করতে হবে। 

স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট: চর্বিযুক্ত মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আরো থাকে মুরগির ত্বক, পূর্ণ ননীযুক্ত দুধ, মাখন এবং নারকেল ও পামওয়েলে। ট্রান্স ফ্যাট থাকে ডেজার্ট, মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন, মার্গারাইন, ফ্রজেন পিৎজা ইত্যাদিতে। 

কৃত্রিম চিনি: মিষ্টি বেভারেজ, স্ন্যাকস এবং প্যাকেটজাত মিষ্টি খাবারে অ্যাডেড সুগার থাকে। সোডা, সুইটেনড কফি এবং চা, এনার্জি ড্রিঙ্ক, কেক, আইসক্রিম, ক্যান্ডি, সিরাপ এবং জেলিতে কৃত্রিম চিনির অধিক ব্যবহার হৃদযন্ত্রের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। 

অ্যালকোহল: যাদের এ বদভ্যাস রয়েছে তাদের জানা দরকার, এই পানীয় আপনার হৃদযন্ত্রের অবস্থা খারাপ করে দেবে। অতিমাত্রার অ্যালকোহল খুব দ্রুত হার্ট নষ্ট করবে। 

ব্যায়াম 
হার্টকে শক্তিশালী করা যায় ব্যায়ামের মাধ্যমে। এতে করে প্রতি হৃদস্পন্দনে আরে বেশি পরিমাণে রক্ত প্রবাহ ঘটে। ফলে দেহে আরো বেশি অক্সিজেন প্রবেশ করে। দেহের যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। ব্যায়ামে উচ্চ রক্তচাপ প্রশমিত হয়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়। 

যেসব ব্যায়ামে আপনাকে গভীর শ্বাস গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে সেগুলো হৃদযন্ত্রের জন্যে উপকারী ব্যায়াম। অ্যারোবিক্সের কথা বলতেই হয়। এ ধরনের ব্যায়ামে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহের জন্যে হৃৎপিণ্ড আরো বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। এছাড়াও হাঁটা, দৌড়ানো, নাচানাচি, সাঁতার এবং সাইকেল চালানো হৃৎপিণ্ডের জন্যে খুবই ভালো ব্যায়াম। 
সূত্র: ফ্যামিলি ডক্টর 

খবরটি ইউনিকোড থেকে বিজয়ে নিতে ব্যবহার করুন কালের কণ্ঠের বাংলা কনভার্টার-

https://www.kalerkantho.com/home/converter

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা