kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

অবসাদগ্রস্ত? এভাবে মিলবে সমাধান...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুন, ২০১৯ ১৫:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অবসাদগ্রস্ত? এভাবে মিলবে সমাধান...

অতিরিক্ত চিন্তায় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন আপনি? তবে ভয় নেই। আছে সমাধান। কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি অবসাদগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন, সন্দেহ নেই। 

সেই প্রাচীনকাল থেকে আমাদের জীবনে ধ্যান এর গুরুত্ব অপরিসীম। আগেকার দিনে তাই মুনি-ঋষিরা সব সময় নিজেদের শরীর এবং মনকে ভালো রাখতে ধ্যান করতেন। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের উপর নির্ভর করে আমাদের শরীর এবং মন কতটা প্রভাবিত হয় তা প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন বইতে বলা হয়েছে।আর ঠিক সেই কারণেই অবস্থানের সাথে সাথে আমাদের শরীরের যাতে ছন্দপতন না হয় তার জন্য ধ্যান করা অবশ্যই দরকার। এর পাশাপাশি ধ্যান মনোযোগ এবং একাগ্রতা বাড়ায়। প্রতিদিন ধ্যান করলে মনোযোগ এবং একাগ্রতা অনেকটাই বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অনেক সময় প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হই। সেই ঘটনা আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষত আমাদের মনের উপর এর ব্যপ্তি বেশি ঘটে। আর মন যেহেতু আমাদের চালনা শক্তি তাই বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবে আমাদের মন সবসময় ক্ষতিগ্রস্থ বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। আমাদের বাড়িতে স্কুলে বা কলেজে বা কর্মক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে, বিভিন্ন চরিত্রের সাথে রোজ পরিচিত হই। তাদের সবাই আমাদের মনের মত হয় না ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজ আমাদের ভালো লাগা বা খারাপ লাগার সাথে জড়িয়ে থাকে। কিন্তু কার কাজ গুলোকে আমরা প্রাধান্য দেব এবং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের মনের উপর প্রভাব ফেলতে দেবো আমরা অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য করে উঠতে পারি না। ফলে আমাদের মন আঘাতপ্রাপ্ত বা আহত হয় অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে। অনেক কিছুই আমরা সেসব ব্যক্তিকে বা তাদের কাজগুলোকে নিয়ে অকারণ চিন্তা করে দুঃখ পাই যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান অনুন্নত করতে থাকে। তাই আজকের আলোচনায় আমরা ঠিক করে নেব যে যোগাভ্যাস বা ধ্যান এর মাধ্যমে মনের অতিরিক্ত চিন্তা করা কী করে ঠিক করবো বা অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় চিন্তা করা থেকে কী করে বিরত রাখবো নিজেকে। 

১. ফলাফল নিয়ে ভাবনা বন্ধ করুন: 

আমরা অনেক সময় প্রতিদিনের কাজ করি ফলাফলের কথা ভেবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, কাজ করলে প্রত্যেকেই ফলাফলের আশা করে এবং যেজন্য কাজটা করছি যেন তার সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় সেটার জন্যই আমরা উদগ্রীব থাকি। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই শুধুমাত্র ফলাফলের কথা ভেবে আমরা মনের উপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে ফেলি যে কারণে মন অতিরিক্ত চিন্তা করে যেমন আমাদের শরীরের ক্ষতি ঘটায় একইসাথে আমাদের কাজের মান অনেকটাই কমে যায়। এ কারণে গীতায় বলা হয়েছে, 'শুধুমাত্র কর্ম করে যাও ফলের আশা করো না।' অর্থাৎ এই পৃথিবীতে আমরা মানুষ হিসেবে যে ধর্ম পালন করতে এসেছি শুধুমাত্র সেটাই করে যাওয়া দরকার। ফলাফলের চিন্তা না করে সঠিক কাজ করলে অবশ্যই সুফল মিলবে। প্রাচীনকাল থেকে যোগাভ্যাস বা ধ্যান করার ক্ষেত্রেও এই একই কথা বলা হয়েছে। 

২. ছোট ছোট কাজে ভাগ করুন :

অনেক সময় আমরা দিনের শুরুতে ঘুম থেকে উঠেই ভাবি যে আজকে সারাদিনে কী কি কাজ রয়েছে। যখন সেই দিনের সব কাজের বিষয়ে আমরা একসাথে ভাবতে শুরু করি তখন আমাদের মন অতিরিক্ত চিন্তা শুরু করে দেয়। তাই সকালেই কাজগুলোকে একটা পরিকল্পনা করা দরকার। 
কাজ গুলোকে ছোট ছোট  অংশে ভেঙে নিয়ে সেগুলো সম্পাদন করতে হবে। 

৩. ধ্যান করুন :

অনেকেই প্রশ্ন করেন, মনের চালনা শক্তি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং অতিরিক্ত চিন্তা কমানোর জন্য ধ্যান কিভাবে আমাদের সাহায্য করে থাকে? ধ্যান আমাদের যেসব ক্ষেত্রে বিপুলভাবে সাহায্য করে থাকে তার কিছু উদাহরণ বলা হলো : হতাশা কমাতে সাহায্য করে, অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করে, মস্তিষ্কের উর্বরতা এবং একাগ্রতা বাড়ায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়, অনুভূতির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করে। এই কাজগুলো ছাড়াও ধ্যান আমাদেরকে যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। একটা কাজ করার আগে আমরা সবসময় চেষ্টা করি সেটাকে ভালো করে বোঝার। সেই কাজটা কি চাইছে বা কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সেই কাজ করা হচ্ছে সেটা ভালো করে বুঝে নেওয়া একান্ত দরকার। এই ক্ষমতা আমাদের মনকে নিতে পারে প্রতিদিনের যোগাভ্যাস। 

৪. সচেতনভাবে ভাবুন :

কোন কিছুর যেমন খারাপ দিক আছে তেমন ভালো দিকও আছে। আমরা যে অতিরিক্ত চিন্তা করছি তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে কেমন হয়? ধরে নেওয়া যাক, আমরা অফিসে কোন একটা কাজ করছি বা কোন রিপোর্ট তৈরি করছি। সে ক্ষেত্রে আমরা সব সময় চিন্তা করি যে কিভাবে এই রিপোর্ট আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পছন্দের হবে। একই সাথে যদি আমরা একটু অতিরিক্ত চিন্তা করে ভাবি যে কোন কোন খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে পারে এই রিপোর্ট দেখার পর, তাহলে সহজেই শুধুমাত্র অতিরিক্ত চিন্তাকে ভালো কাজে ব্যবহার করে ভালো এবং খারাপ দুটো দিক এর মধ্যে পার্থক্য সহজে বের করে নেওয়া যায়। 

৫. প্রাণায়াম :
যোগাভ্যাস এর সাথে সাথে প্রতিদিনের রুটিনে যদি প্রাণায়ামকে রাখা যায় তাহলে এই প্রাণায়াম আমাদের মনকে অতিরিক্ত চিন্তা করা থেকে বিরত রাখে। ধরে নেওয়া যাক যে কেউ কোনো কাজ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করছেন বা অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে ভীষণভাবে চিন্তিত এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, যদি কিছু সেকেন্ডের জন্য তিনি প্রাণায়াম করেন তাহলে তার মন অনেকটাই শান্ত হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। 

সূত্র : বোল্ড স্কাই 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা