kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

ডেঙ্গু চিকিৎসায় অধিকতর সতর্কতা জরুরি

ডা. খান আবুল কালাম আজাদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গু চিকিৎসায় অধিকতর সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গুর গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে টাইপ ১ ও ৪ বেশি হলেও গত বছর থেকে দেখা গেল টাইপ ৩ মারাত্মকভাবে আক্রমণ করল। ফলে সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এর সঙ্গে বিশেষভাবে চিকিৎসকদের খেয়াল রাখা উচিত যে ডেঙ্গু রোগী হলেও যেন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েই আমরা লেগে না থাকি, ওই রোগীর আরো কোনো সমস্যা বা জটিলতা আছে কি না, সেটাও গভীরভাবে খেয়াল রাখতে হবে। রক্ত দেওয়ার আগে ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

রোগীর রক্তের প্রয়োজন কতটুকু, যারা মুখে খেতে পারে তাদের আইভি ফ্লুইড দেওয়ার আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার আগেও খুব ভালোভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। যিনি মুখে খাওয়ার ক্ষমতা রাখেন তাঁকে কেন আমি আইভি দেব? এমন হলে রোগীর জটিলতা বা বিপদ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সার্বক্ষণিক ফলোআপে রাখতে হবে। কোনো হাসপাতালে এসব নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে প্রয়োজনে অন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বা সহায়তা নিতে পারে। যেমন—এবার জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় সংসদে বসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কারণে। তাঁকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলে আমাকে খবর দেওয়া হয়। আমি প্রয়োজনমতো যাওয়া-আসা করে তাঁর চিকিৎসা দিচ্ছি ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে। অর্থমন্ত্রী এখন সুস্থ হয়েছেন। আশা করি, আজ-কালের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন।

তবে কিডনি বিকল, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, হাঁপানি বা অন্য কোনো জটিল ক্রনিক রোগীর ডেঙ্গু হলে স্বাভাবিকভাবে তাদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে পড়ে। তাই তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে চিকিৎসক থেকে শুরু করে রোগীর স্বজনদেরও।

ডেঙ্গু ১, ২, ৩ ও ৪ টাইপই বাংলাদেশে আছে। সাধারণত এর কোনো একটি ভাইরাসে একবার কেউ আক্রান্ত হলে সেই ভাইরাসে ওই ব্যক্তি আর আক্রান্ত হবে না। তবে অন্য ভাইরাসে আক্রান্ত হতেই পারে। এসবের পাশাপাশি অবশ্যই সবার আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজর দিতে হবে বেশি। মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে সব সময়। যাতে এডিশ মশার বিস্তার না ঘটে সেদিকে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও অধ্যক্ষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা