kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

তরুণরাই সব বদলে দেবে

মোস্তফা কামাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুন, ২০১৯ ১১:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তরুণরাই সব বদলে দেবে

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

লেখার শুরুতেই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতাটি উল্লেখ করছি।

‘যে শিশু ভূমিষ্ট হলো আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিত্কারে।’
এর চেয়ে ধ্রুব সত্যি আর কী হতে পারে! নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই আমাদের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। জায়গা ছেড়ে না দিলেও তারা জায়গা করে নেবে। তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে। তারাই পাল্টে দেবে সবকিছু। গড়তে নতুন দেশ, নতুন বিশ্ব। আমরা যতই হতাশা ছড়াই, যতই তরুণদের নিয়ে হা-হুতাশ করি তাতে ওদের কিছু আসে যায় না। ওরা ঠিকই ওদের জায়গা ওরা করে নেবে।

কিছুদিন আগে আমাদের শিশুরা রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে যা দেখাল তা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি। তাতে কি একবারও আমাদের মনে হয় না, ওরাই পারবে! এই যে অভিনব আন্দোলন তারা করল তা কি ওদের কেউ শিখিয়ে দিয়েছিল! নিশ্চয়ই নয়। তবে হতাশা কেন? হা-হুতাশ কেন?

অনেক আমরা সময়ই দেখি, অভিভাবককরা সন্তানের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সারাক্ষণ বলতে থাকেন, ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে না। শ্রেণি পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো করে না। সারাক্ষণ লেখাপড়ার জন্য চাপের ওপর চাপ দিতে থাকেন! এতো দুশ্চিন্তা না করে ছেলে-মেয়ের ওপর ছেড়ে দিন না! তাদেরকে মুঠোয় বন্দি করে রাখবেন না। তাদেরকে দায়িত্বশীল হতে শেখান। তাদেরকে নর্মতা, ভদ্রতা শেখান। বড়দের সম্মান করতে শেখান। অপরকে সাহায্য করতে শেখান। দরিদ্রকে দান করতে শেখান। একজন সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করুন। দেখবেন, সেটা অনেক কাজে দেবে।

দেশের ভেতরে যে সামাজিক অস্থিরতা, তার মূলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার। এর থেকে নিজেদের মুক্ত রাখুন। তাহলে দেখবেন সন্তানরাও এর থেকে মুক্ত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি নিজেই যদি আসক্ত হয়ে পড়েন তাহলে সন্তানকে ঠেকাবেন কী করে!

এবার একটি বাস্তব ঘটনার কথা বলি। আমার এক আত্মীয় সন্তান নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। নিজে খুব ছোট চাকরি করতেন। তাই তিনি মনে প্রাণে চাইতেন, তার সন্তানরা যেন বড় চাকরি করে। কিন্তু লেখাপড়া ছাড়া তো বড় হওয়া যায় না! তিনি খুব চেষ্টা করতেন যাতে সন্তানরা লেখাপড়া ঠিকমতো করতে পারে। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে সন্তানদের লেখাপড়ার দিকে খুব বেশি নজর দিতে পারেননি। বড় ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। সেই ছেলে পরিবারে কিছু সাপোর্ট দেয়। তাতে তার কিছু উপকার হয় বটে; কিন্তু টানাপড়েন অবস্থা কিছুতেই কাটাতে পারেন না। তারপরও তিনি আশা হারান নি। তিনি মাটি কাপড়ে নিজের কষ্ট সয়েছেন।

ছোট দুই ছেলে নিজেরা টিউশনি করে লেখাপড়া চালায়। মেজ ছেলে বিবিএ। ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং। ছোট ছেলে ফাইনাল পরীক্ষায় দিয়েই আর্মি লং কোর্সে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে পরীক্ষা দেয়। এ কথা সে মা বাবাকেও জানায় না। প্রথমবারই সে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে সুযোগ পেয়ে যায়। তারপর শুরু হয় তার নতুন পথচলা। সে এখন সেনাবাহিনীতে মেজর পদে চাকরি করছে। দুইবার শান্তি মিশনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার কারণে পুরো পরিবারের এখন সুখের জীবন।

চেষ্টা করলে সুযোগ আসবেই। সেই সুযোগ কোন দিক দিয়ে আসবে তা কেউ জানে না। যখন সুযোগ আসে তখন মানুষ বলে ভাগ্য। আসলে যে অব্যাহত চেষ্টার ফল তা কেউ ভেবে দেখে না। আমি মনে করি, চেষ্টাই মানুষের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক। চেষ্টা না করে ঘরে বসে থাকলে কখনো ভাগ্যের পরিবর্তন আসবে না।

কাজেই কোনো অবস্থাতেই আশা হারানো যাবে না। অনেক কষ্টের মধ্যেও আশা বেঁধে রাখতে হবে। আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখবে।

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

পড়ুন আগের কিস্তি...

ওরাই তো প্রকৃত বীর!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা