kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

জিপিএ ৫ পাওয়াই কি শেষ কথা!

মোস্তফা কামাল   

১৪ মে, ২০১৯ ১১:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জিপিএ ৫ পাওয়াই কি শেষ কথা!

বলতেই হয়, আজকের লেখাটি বিশেষ এক পর্ব। এ সংখ্যাটি লেখা হয়েছে সদ্য এসএসসি'র ফল পাওয়া সেই সকল শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্যে, যারা জিপিএ ৫ না পাওয়ার বেদনায় দিশেহারা হয়ে গেছেন। আশানুরূপ ফল যে শিক্ষার্থী পায়নি সে এমনিতেই হতাশ। এখানে আরো বেশি দুঃখজনক সত্যটা হলো, ওই ছাত্র বা ছাত্রীর অভিভাবকরা যেন আরো বেশি দুমড়ে মুচড়ে গেছেন। তাহলে কৈশোরের ওই উত্তাল মনটাকে শান্ত করবে কে? এ দায়িত্ব অবধারিতভাবেই বড়দের ওপর বর্তায়...

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। এখানে তিনি স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

জিপিএ ৫ পাওয়াই কি শেষ কথা? না পেলে কি হবে? সবকিছু শেষ হয়ে যাবে? যারা জিপিএ ৫ পায়নি তারা কি মেধাবী নয়? অবশ্যই যদি মেধাবী হয় তাহলে কেন এতো দুশ্চিন্তা? কেন সন্তানের প্রতি এতো ক্ষোভ, রাগ! কেন তাকে বকাঝকা করা? যে জিপিএ ৫ পায়নি, অথচ পেতে পারত সে কি মনোবেদনায় ভুগছে না? এ সময় কয়জন মা বাবা সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন? সন্তানকে সান্ত্বনা দিয়েছেন! যারা দিয়েছেন তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। যারা দেননি তাদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানের পাশে দাঁড়ান, তাকে সাহস দিন। তাকে বলুন, জীবনে জিপিএ ৫ পাওয়াই বড় কথা নয়।  

আমার জানা মতে, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায়নি। কোনো কোনো স্কুলের ফার্স্ট, সেকেন্ড হওয়া শিক্ষার্থীও জিপিএ ৫ পায়নি। খাতার মূল্যায়নে ত্রুটির কারণেও এটা হতে পারে। খাতার গড়পরতা মূল্যায়নের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। খাতা দেখার জন্য যে সময় বেঁধে দেওয়া হয় তার মধ্যে এতো এতো খাতার মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। আর মূল্যায়ন না হলে কোন খাতাটা ভালো তা বুঝবে কি করে? ফলে ভালোভাবে যাচাই না করে নম্বর দেওয়া হয়। 

যে বয়সের ছেলেমেয়েরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তাদের বয়সটা কিন্তু খুবই স্পর্শকাতর। তারা কোনো কষ্ট কিংবা আঘাত স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় সে জানে কেমন পরীক্ষা সে দিয়েছে। তার প্রত্যাশিত ফল না পেলে সে নিজেও চরম আঘাত পায়। সেই আঘাত অনেকেই সহ্য করতে পারে না। তখন সে মানসিক ভারসাম্য হারায়। অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। এটা তাদের দোষ নয়; বয়সের দোষ। বয়সটাই ঝুঁকিপূর্ণ। 

এ সময় সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হয় অভিভাবকদের। সন্তানকে বুঝতে হয়। কষ্ট সামাল দেওয়ার জন্য তাকে সময় দিতে হয়। আমরা অভিভাবকরা না বুঝেই সন্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করি। কেন ভালো রেজাল্ট করেনি তা নিয়ে ঝুলাঝুলি করি। অনেকে মারধরও করেন। এটা রীতিমতো অপরাধ বলে মনে করি। 

আমি ভুরিভুরি উদাহরণ দিতে পারব, জিপিএ ৫ পেয়েছেও জীবনে কিছুই করতে পারেনি। আবার জিপিএ ৫ না পেয়েও অনেকেই জীবনে অনেক উন্নতি সাধন করেছেন। তবে জিপিএ ৫ পেয়ে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারা সারাজীবন জিপিএ ৫ পেয়েই জীবনকে গড়ে তুলুক সেটা চাই। তবে জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে হলে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হবে। সততা, নীতি-নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।  

জিপিএ ৫ পেলাম কিন্তু ভালো মানুষ হলাম না; তাতে কোনো লাভ নেই। যদিও নামকরা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য জিপিএ ৫ লাগবে। যারা পায়নি তারা ভালো কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনও করতে পারবে না। যারা অন্যদের আবেদন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে তারা অন্যায় করেছে। এটা হতে পারে না। 

অভিভাবকদের বলব, সন্তানের প্রতি মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করবেন না। সন্তানের বন্ধু হোন। তার সঙ্গে মিশুন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন। পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিন। আজ সে ভালো রেজাল্ট করেনি বলে কাল করবে না, তা তো নয়! আবার জিপিএ ৫ না পেলে যে তার জীবন থেমে যাবে তাও নয়! তাকে সামনে এগিয়ে চলার সাহস দিন দেখবেন সে পৃথিবী বদলে দেবে। আগামী প্রজন্মের সন্তানরা যা করতে পারবে তা আপনি হয়তো চিন্তাও করতে পারবেন না। কাজেই হতাশ না হয়ে সন্তানের পাশে দাঁড়ান। তাকে মূল্যায়ন করুন। তার প্রতিদান আপনি অবশ্যই পাবেন। 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

পড়ুন আগের কিস্তি...
সফল উদ্যোক্তা হতে হলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা