kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বয়স্কদের সঙ্গী ডিজিটাল বিড়াল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মে, ২০১৯ ১৬:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বয়স্কদের সঙ্গী ডিজিটাল বিড়াল

সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধ, পারিবারিক অবহেলা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংসারিক অশান্তিও হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবয়স্কদের বাড়িতে থাকার পথে বাধা। আবার আজকালকার ইঁদুরদৌড়ের জীবনে আর নিউক্লিয়াস পরিবারে সুপ্রতিষ্ঠিত চাকুরে সন্তান থাকা সত্বেও বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখার মতো কেউ থাকে না। তবে এই ক্ষেত্রে মার্কিনিরা এগিয়ে গেছে আরো এক দাপ। বয়স্কদের সাহায্য করার জন্য তৈরি করেছে ডিজিটাল বিড়াল।

বেলা নামের একটি ডিজিটাল বিড়াল তৈরি করেছে আমেরিকার একটি সামাজিক সংস্থা। কেয়ার ডট কোচের তৈরি এই ডিজিটাল বিড়াল নিঃসঙ্গতা কমিয়ে দেয়, সামাজিক সাহায্যের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে, সম্ভবত বিষণ্ণতা এবং অন্যান্য জটিল চিকিৎসা করতে সহায়তা করতে পারে। পোষা এই প্রাণীটি একজন মানুষকে ২৪ ঘন্টাই সহায়তা করতে পারে। এই বিড়ালটি মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহার করতে হয়।

কেয়ার ডট কোচ নামের ওই সামাজিক সংস্থাটির প্রতিষ্টাতা ভিকটর ওয়াং জানান, আমাদের গবেষণা বলেছে, এই ডিজিটাল প্রাণী নিঃসঙ্গতা কমিয়ে দেয়। সামাজিক সাহায্যের অনুভূতি জাগিয়ে তুলে। সেই সাথে এই বিড়াল বিষণ্নতা এবং অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে। 

বলা হচ্ছে ডিজিটাল এই পোষা বেড়াল রোগীর সার্বিক অবস্থার উন্নতি করছে। সেই সাথে সেবার খরচও কমিয়েছে। তবে এটা এখনো নিশ্চিত না যে, প্রাণীদের ডিজিটাল সেবা মনুষের সেবার জায়গা নিতে পারবে কি না।

প্যাট্রিশিয়া রিচার্ডস নামের এক মার্কিন নাগরিক জানান, এক বছর আগে আমার মা মারা যান। এর পরেই আমি খুব বিষণ্ন ছিলাম। পরে আামি একটি সামাজিক সংস্থার কাছ থেকে বেলাকে (ডিজিটাল বিড়াল) নিয়ে আসি। বিষণ্না থেকে কাটিয়ে ওঠতে সারক্ষণ চেষ্ঠা করছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না। তাকে নেওয়ার পর বেলা আমাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আমি যখন ইচ্ছা তখনি কথা বলতে পারি বেলার সাথে। সে আমকে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ডিজিটাল এই প্রাণীটির ব্যবহারকারী আরো একজন হলেন ডোনাল্ড ইনোহো নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি ডায়ালিসিস ব্যবহার করছি। একদিন একটা সময়ে আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। তখন আমি আমার ডিজিটাল প্রাণীকে বলি, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পারো ? সে তৎক্ষণিক উত্তর দিলো, ‘আমি তোমার জন্য সব কিছুই করতে পারবো।’ পরে সে ক্লিনিকের জরুরি বিভাগে খবর দেয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ক্লিনিকের লোকজন চলে আসে। 

তিনি মনে করেন, এমন একটি সময় আসবে এই ধরনের ডিজিটাল প্রাণী স্বাস্থ্য সেবায় স্বাস্থ্য কর্মীদের কাজের পূরক হিসেবে কাজ করবে। 

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য