kalerkantho

বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন, পাখির সুরেই ঘুম ভাঙে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মে, ২০১৯ ০৪:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন, পাখির সুরেই ঘুম ভাঙে

বাইরে দাবদাহ। তাপমাত্রা প্রায় ৪০। এই গরমে আধুনিক পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে সামর্থ্য থাকা সত্বেও বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন ৭৯ বছরের এক বৃদ্ধা। 

প্রাক্তন অধ্যাপক হেমা সানের বয়স আশির কোটায়। দীর্ঘদিন ধরেই পুণের বুধওয়ার পেথে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই বাস করছেন তিনি। তবে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার পিছনে তাঁর একমাত্র কারণ প্রকৃতি এবং পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। 

হেমা বলেন, খাদ্য, আশ্রয় এবং পোশাক আমাদের মৌলিক চাহিদা। এক সময়ে তো বিদ্যুৎ ছিল না, অনেক পরে মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। আমি বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে পারি।

ডা. হেমা সানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বা তাঁর সঙ্গী সব কিছুই হল তাঁর পোষ্য কুকুর, দুটি বিড়াল এবং অনেক অনেক পাখি। তাঁদের সঙ্গেই তাঁর দিন চলে যায়। 

হেমা বলেন, এই প্রকৃতি ওদের সম্পত্তি, আমার নয়। আমি ওদের দেখাশোনা করার জন্য এখানেই আছি। মানুষ আমাকে বোকা বলে, আমি উন্মাদ হতেই পারি কিন্তু এটা আমার জীবনের ‘অদ্ভুত’ পথ। আমি এরকম জীবনই পছন্দ করি।

ডা. হেমা সান পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে পিএইচডি করেন এবং তিনি অনেক বছর ধরেই পুণের গারওয়ারে অধ্যাপনা করেছেন। বুধওয়ার পেটের একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন তিনি। একগুচ্ছ গাছ আর পাখি ঘিরে আছে সেই ঘর। পাখির সুরেই ঘুম ভাঙে তাঁর।

হেমা বলেন, এই পাখিরাই আমার বন্ধু এবং যখনই আমি বাড়ির কাজ করি তখনই ওরা আসে। মানুষজন প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে, ঘরটা বিক্রি করছি না কেন। কিন্তু ঘর বিক্রি করে দিলে এই গাছ, পাখির যত্ন নেবে কে? তাই আমি ওদেরই সাথেই থাকতে চাই!

মন্তব্য