kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

স্বপ্নবাজ মানুষদের গল্প

মোস্তফা কামাল   

৫ মে, ২০১৯ ১৩:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বপ্নবাজ মানুষদের গল্প

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

 

স্বপ্নবাজ মানুষদের কেউ জীবনে ব্যর্থ হয়েছে তার কোনো নজির নেই। প্রত্যেকেই উন্নতির শীর্ষে পৌঁছতে পেরেছেন। চলার পথে ব্যর্থতা থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। আর তা ব্যর্থতা ভাবলে চলবে না। সেটা একটা অভিজ্ঞতা। সফল হওয়ার জন্য এ ধরনের অভিজ্ঞতা খুবই কাজে লাগে। 

একজন স্বপ্নবাজ মানুষ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আবদুল কালাম। তিনি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতেন। ছোটবেলায় তাঁর এক স্কুল শিক্ষক ব্যাকবোর্ডে পাখি এঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই পাখির মতো উড়তে পারবে?

বিষয়টি তার মনে দাগ কেটেছিল। তিনি ভাবলেন, পাইলট হতে হবে আমাকে। তিনি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করলেন। পরীক্ষায় অংশ নিলেন। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারলেন না। কিন্তু তিনি দমে যাননি। পরবর্তীকালে তিনি হয়ে গেলেন রকেট বিজ্ঞানী। বিমান প্রকৌশলে লেখাপড়া করে তিনি মহাকাশযান তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভারতে মিসাইলম্যান হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। পরে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতিও হন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও স্বপ্নবাজ মানুষ ছিলেন। ছিলেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। তাঁর জন্ম ইতিহাস সবার জানা। তার বাবা ছিলেন কেনিয়ান মুসলিম। মা ছিলেন খ্রিস্টান। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে তাঁর জন্ম। জন্মের দুই বছর মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে তার মা ইন্দোনেশীয় এক নাগরিককে বিয়ে করেন। বারাক ওবামা মায়ের সঙ্গে সেখানে চলে যান। দশ বছর পর তিনি দাদা-দাদির কাছে চলে আসেন। কঠিন জীবন অতিক্রম করতে হয়েছে তাকে। অত্যন্ত মেধাবী ওবামা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি উঠে আসেন রাজনীতির শীর্ষ অবস্থানে। তার অভূতপূর্ব বক্তব্য আমেরিকানদের আকৃষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে তিনি টানা দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আমরা বলতে পারি তিনি একজন সফল মানুষ। কিন্তু তাঁর অতীতটা চিন্তা করলে কি মনে হয়? সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো!

চীনের একজন সফল ব্যবসায়ী জ্যাক মা সম্পর্কে কিছু বলি। জ্যাক মা পশ্চিম চীনের হোয়াং ঝু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিন সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। জ্যাক মা লেখাপড়ায় তেমন ভালো ছিলেন না। কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় পর পর দুইবার ফেল করে তৃতীয়বার সফল হন। পরে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শুরুতে তিনি চাকরির জন্য চেষ্টা করেন। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি যখন পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করলাম, তখন ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের চাকরি হলো। আমাকে বলা হলো, তুমি উপযুক্ত নও। আমার শহরে যখন কেএফসি আসলো, আমরা ২৪ জন চাকরির জন্য আবেদন করলাম। ২৩ জনের হলো, আমি বাদ পড়লাম। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে আমি দশবার আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। তারপর চিন্তা করলাম, হয়তো আমি একদিন হার্ভার্ডে লেকচার দেব। ঠিক তাই হয়েছিল।  

বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েও জ্যাক মা দমে যাননি। ১৯৯৫ সালে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার জোগাড় করে ব্যবসা শুরু করেন। খুব ধীরে ধীরে ব্যবসায় তার সাফল্য আসতে শুরু করল। ১৯৯৯ সালে তিনি এবং তার ১৮ জন বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করলেন অনলাইন পাইকারি কেনাবেচার সাইট আলিবাবা। সেই আলিবাবা এখন বড় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এখন তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

জ্যাক মার উত্থানের গল্পটুকু পড়লেই সবাই বুঝতে পারবে সাধনা কাকে বলে। বার বার ব্যর্থ হয়েও তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। একটুও হতাশ হননি। দমে যাননি। অবশেষে সাফল্য এসে ধরা দিয়েছে তাঁকে। 

কাজেই শুধু স্বপ্ন দেখলেও হবে না। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লেগে থাকতে হবে। কাজ করতে গেলে ব্যর্থতা আসবে। তখন থেমে যাওয়া যাবে না। আরো বেশি মানসিক শক্তি নিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে। 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

পড়ুন আগের কিস্তি 
তবু বেঁচে থাক স্বপ্ন

মন্তব্য