kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ক্লাসে ভালো করবে কীভাবে

মোস্তফা কামাল   

৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্লাসে ভালো করবে কীভাবে

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

ক্লাসে সবাই ফার্স্ট হতে চায়। সবাই ভালো করতে চায়। কিন্তু ভালো করার জন্য যে চেষ্টা করা দরকার তা কি সবাই করে? ক্লাসে সবাই কি সমান মনোযোগী? শিক্ষক যা পড়ান; সবাই কি তা সমানভাবে বুঝতে পারেন? না বুঝলে কেউ কি দ্বিতীয়বার শিক্ষকের কাছে জানতে চায়?

অনেকে বলে থাকে, অমুকে ভালো ছাত্র; অমুকে খারাপ ছাত্র। যে ক্লাসে প্রথম হয় সে কি বিনা চেষ্টায় হয়? নিশ্চয়ই তাকে অনেক বেশি লেখাপড়া করতে হয়। লেখাপড়া না করলে ক্লাসে ভালো ফল করবে কীভাবে? শুধু পাঠ্য বই পড়েই কি সেটা সম্ভব? সেজন্য সৃজনশীল বইও পড়তে হবে। আর লেখাপড়া হতে হবে আনন্দের সঙ্গে।

তবে এখনকার মা বাবারা যেভাবে তাদের সন্তানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। মানসিক চাপ নিয়ে কোনো ছেলে-মেয়ে ভালো করতে পারে না। মানসিক চাপে আনন্দের পড়া নিরানন্দ হয়ে ওঠে। যে পড়ায় কোনো আনন্দ নেই, সেই পড়া কেন পড়বে?

মানুষের জন্মটাই তো একটা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্যও লড়াই করতে হয়। ক্লাসে ভালো করার ব্যাপারটাও তাই। এমনি এমনি তো আর রেজাল্ট ভালো হয় না! এজন্য চেষ্টা করতে হয়। সবাই ভালো করতে চায়। এই চাওয়ার সঙ্গে চেষ্টা যুক্ত না হলে কখনোই তা সফলতা আসবে না। 

উন্নত দেশগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়ায় তেমন চাপ নেই। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গেলে অনেক লেখাপড়া করতে হয়। আমাদের দেশে যত চাপ প্রাথমিকে। তারপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে। লেখাপড়ার চাপে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক রোগী হয়ে যায়। 

শিক্ষার্থীর যখন খেলার সময় তখন তাকে চাপিয়ে দেওয়া হয় বইয়ের বোঝা। এতো পড়ার চাপ যে, দম ফেলার সময়টুকু পায় না। কেউ ভাবেও না যে, স্কুলের পড়ার চাপে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় কৈশোর-শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। 

আমাদের নীতিনির্ধারকরা এ সব বিষয় নিয়ে চিন্তাও করেন না। এখানে যারা পাঠ্যসূচি তৈরি করেন তারা কোন বয়সের শিক্ষার্থীর জন্য কী ধরনের পাঠ্যক্রম থাকা দরকার তাও জানেন না। ভাবেন না অভিভাবকরাও। তারা ভালো ফলাফলের জন্য ছেলে-মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নিপিড়ন করেন। স্কুল এবং মা-বাবার চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকে বিপদগামী হয়ে যায়।  

খেলতে খেলতে কিংবা গল্পচ্ছলে পড়ার যে রীতি-রেওয়াজ তা আমাদের দেশে নেই। মনে হচ্ছে টু, থ্রিতে ভালো না করলে জজ- ব্যারিস্টার, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে না। এই ধ্যান-ধারণা থেকে অভিভাবকদেরও বেরিয়ে আসতে হবে। তাকে খেলার সুযোগ দিতে হবে। তাকে সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ দিতে হবে। শুধু ক্লাসের পড়ার চাপে তাকে পিষ্ট করা যাবে না।   

আমাদের আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন তা হচ্ছে, স্বভাবগতভাবেই কোনো শিক্ষার্থী হয়তো কম কথা বলে। কেউ বেশি কথা বলে। আবার কেউ স্বাভাবিক। যারা কম কথা বলে তারা হয়তো ক্লাশে শিক্ষককে কোনো প্রশ্ন করে না। বুঝলেও চুপ থাকে, না বুঝলেও চুপ থাকে। কোনো বিষয়ে না বুঝলে তাদের মধ্যে ঘাটতি থেকে যায়। শিক্ষক ঠিকই বুঝতে পারেন কোনো ছেলে-মেয়ে কম কথা বলে। তাদেরকে ধরে ধরে বিশেষভাবে গাইড করা শিক্ষকের দায়িত্ব। ক'জন শিক্ষক সেই দায়িত্ব পালন করেন? সেখানে হয়তো অভিভাবকদের হাল ধরতে হয়। তার মানে এই নয় যে মেরে কেটে পড়াতে হবে। পড়ার দায়িত্বটা সন্তানের ওপরই ছেড়ে দিতে হবে। সে যখন বুঝতে, পড়াটা তার নিজের জন্য তখন সে হেলাফেলা করবে না। 

এবার শিক্ষার্থীদের জন্য বলি, তোমরা নিশ্চয়ই সবাই ক্লাসে ভালো করতে চাও। তোমাদের উচিত, প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা। তাহলে আর পরীক্ষায় সময় বাড়তি চাপ থাকবে না। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। স্কুল ফাঁকি দেওয়া যাবে না। যেদিন তুমি ফাঁকি দেবে সেদিন আর আসবে না। 

আরেকটা কথা, আমরা ছোটবেলায় পড়েছি, পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা। খেলাধুলা, ব্যায়াম ছাড়া শরীর ও মন ভালো থাকে না। শরীর-মন ভালো না থাকলে কি আর পড়ায় মন বসে! 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

পড়ুন আগের কিস্তি...

সততা সাফল্যের সোপান

 

মন্তব্য