kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

স্তন ক্যান্সারের আগাম বার্তা দেবে এই ব্রা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ২০:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্তন ক্যান্সারের আগাম বার্তা দেবে এই ব্রা

নীরব ঘাতকের নাম ক্যান্সার। নারীদের জন্য স্তন ক্যান্সার মারাত্মক। শহর কিংবা গ্রাম নির্বিশেষে, ৩০-৪০ বছর কিংবা এর চেয়েও কম বয়সিরা আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। কিন্তু রোগ নির্ধারণ, কাউন্সেলিং, চিকিৎসা, সব কিছুতেই এখনও পিছিয়ে আছে আমাদের দেশ। তাছাড়া লজ্জার অজুহাতে স্তনের সমস্যা গোপন করেন বেশিরভাগ নারীরা। তাই সমস্যা বড় হওয়ার আগে সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এবার পরীক্ষা না করেই স্তন ক্যান্সারের আগাম সংকেত পাওয়ার একটা উপায় আবিস্কৃত হয়েছে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, ৫০ বছরের উপর বয়স না হলে ম্যামোগ্রাম টেস্ট করা উচিত নয়। এর কারণ হিসাবে রেডিয়েশনের কুপ্রভাবের বিষয়টি সামন আনেন তারা। তাছাড়া ম্যামোগ্রাম পরীক্ষায় বড় অংকের খরচ হয়।। এই খরচের ফলে অনেকে পরীক্ষা করাতে চান না। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেরালার একদল বিজ্ঞানী এই সমস্যার একটা সমাধন বের করেছেন।

সেন্টার ফর মেটেরিয়ালস ফর ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি (সি-মেট) একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এটি আসলে একটা অন্তর্বাস বা ব্রা। এই ব্রা-তে রয়েছে সেন্সর। যেটি থার্মাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে স্তনে ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে শনাক্ত করতে পারে। এই যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য প্রকল্পের চিফ ইনভেস্টিগেটিং অফিসার এ. সীমা সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নারী শক্তি পুরস্কার পেয়েছেন। পরিধেয় বক্ষবন্ধনীর সঙ্গে থার্মাল ইমেজিং যোগ করে ২০১৪ সালে এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানীরা। 

এটাই সেই আলোচিত ব্রা। 

পরবর্তী ৪ বছর ধরে মালাবারে এই বিশেষ বক্ষবন্ধনীর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়। স্তনের ত্বকের তাপমাত্রা দেখে এই সেন্সর কোনোরকম অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে এবং জানিয়ে দেয়। এই ব্রাতে কোনো রেডিয়েশনের ব্যাপারও নেই। কারণ ত্বকের তাপমাত্রা দেখেই এই যন্ত্র কাজ করে। এটি পোর্টেবলও, একটা ছোট সুটকেসেই রাখা যায়। এই ব্রা পরলে কোনো ব্যথা হয় না; পরার সময় পোশাকও বদলাতে হয় না। ফলে গ্রামাঞ্চলে রক্ষণশীল পরিবেশেও কাজ করা যায় সহজেই।

১১৭ জন রোগী ও ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপরে ইতিমধ্যেই এটি পরীক্ষা করা হয়েছে। যে কোনো বয়সের নারীর স্তন পরীক্ষা করা যায় এই যান্ত্রিক ব্রা দিয়ে। তাছাড়া যে কেউ এই ধাতব ব্রা যেকোনো মাপে পরতে পারেন। এই যন্ত্রটির দাম আপাতত ভারতীয় মুদ্রায় রাখা হয়েছে ৪০০-৫০০ রুপি। বাণিজ্যিকীকরণ হলে আরও দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমার দাবি, ভবিষ্যতে এর দাম ৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে এই ব্রা বাজারে আসতে আরও বছরখানেক লাগবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা