kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

বার বার বলো, আমিই পারব

মোস্তফা কামাল   

৩ মার্চ, ২০১৯ ১১:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বার বার বলো, আমিই পারব

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখবেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

কবি কালীপ্রষন্ন ঘোষ লিখেছেন, ‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, একবার না পারিলে দেখ শতবার।’

কোনো কাজে একবার ব্যর্থ হলেই হতাশ হয়ে পড়ে অনেকে। বলে, আমাকে দিয়ে হবে না। কেন হবে না! অন্য কেউ করতে পারলে আমি কেন পারব না? এ প্রশ্ন অবশ্যই মনের ভেতরে জাগতে হবে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমাকে দিয়েই হবে। আমাকে পারতে হবে। সবাই যদি এই প্রতিজ্ঞা করে তাহলে সাফল্য এসে পায়ের কাছে গড়াগড়ি খাবে। মনে রাখতে হবে, এমনি এমনি সফল হওয়া যায় না। তাকে অর্জন করতে হবে। সে জন্য ঘাম ঝড়াতে হয়, মেধা খাটাতে হয়। জীবন থেকে হতাশা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হয়।

প্রথম প্রচেষ্টায় হয়তো কোনো কাজে সফলতা নাও আসতে পারে। তাই বলে সেই কাজটা ব্যর্থ হয়েও গেলো তা নয়। বলা যায় সফলতা অর্জনের একটা ধাপ। সেখান থেকেই নতুন করে শুরু করতে হবে।

ছোটবেলায় আমার এক স্কুল শিক্ষক দিলীপ রায়ের মুখে শুনেছি, যে মাটিতে তুমি পিছলে পড়বে সেই মাটি ধরেই উঠতে হবে। অন্য জায়গার মাটি ধরে উঠতে পারবে না।

পা পিছলে পড়া মানেই একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। হোচট খাওয়া। জীবনে এ রকম ঘটনা অনেক ঘটবে। সেটা জীবনের একটা অভিজ্ঞতা মাত্র। সেই অভিজ্ঞতা এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

ইতিবাচক ভাবনা মানুষের জীবনে যে কত জরুরি সে বিষয়ে আমি দুটি গল্প বলি। সত্যিকারের গল্প। আমার পরিচিত এক বোন আছেন। তিনি এখন সরকারের উর্ধ্বতন পদে কর্মরত। (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তাঁকে আমি প্রশ্ন করেছিলোম, আপনার সাফল্যের পেছনের গল্পটা কি? তিনি স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বললেন, তেমন কোনো গল্প নেই। আমি স্কুল জীবন থেকে নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। গল্প-উপন্যাস পড়তাম। সেই অভ্যাসটা আমার বরাবরই ছিল। ক্লাশের বাইরে প্রচুর বই পড়েছি। মাস্টার ডিগ্রী পাস করার পর বিসিএস পরীক্ষা দিলাম। আমি টিকে গেলাম। এজন্য আমার আলাদা কোনো প্রস্তুতি নিতে হয়নি। আমি নিশ্চিত, নিয়মিত বই-পত্র, পত্রিকা পড়ার কারণেই আমি টিকেছি।

কর্মকর্তা এবার হাসি দিয়ে বললেন, এবার একটা মজার গল্প বলি, প্রথমবার আমি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চান্স পাই। পুলিশের এসএসপি হিসেবে চাকরিতে যোগদানও করি। বিয়ে করতে গিয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম। কন্যা পুলিশ অফিসার! নিশ্চয়ই পাত্রী হিসেবে সে ভালো হবে না। তাকে কে বিয়ে করবে? ছেলের বাবা মা আমাকে দেখতে এসে মুখের উপর অনেক কথা বলে দিলেন। আমার মেজাজ গরম হয়ে গেলো। আমি ওই বসাতেই সিদ্ধান্ত নিলাম, পুলিশের চাকরি ছেড়ে আমি অন্য কোথাও ঢুকব। আবার বিসিএস দিলাম। ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিলাম প্রশাসন। এবারও টিকে গেলাম। তারপর এসি (ল্যান্ড) হিসেবে যোগ দিলাম। তারপর তো এগিয়ে যাওয়া।

আরেকজন সাহসী নারীর গল্প বলি। তাঁর নাম নাজমুন নাহার। তিনি ইতোমধ্যেই ফ্ল্যাগ গার্ল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন । তিনি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ১২৫ দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার পরিকল্পনা হচ্ছে, বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তির আগেই তিনি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে পৃথিবীর সবগুলো দেশ ভ্রমণ করবেন।

কি আশ্চর্য! কি পরিমাণ মানসিক শক্তি থাকলে এক নারী এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে পারেন! তিনি জানালেন, ঢাকায় পড়ালেখা করেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য চলে যান সুইডেনে। লেখাপড়া শেষ করে সেখানেই চাকরি নেন। চাকরি করতে করতেই সিদ্ধান্ত নেন, টাকা জমিয়ে তিনি বিশ্বভ্রমণে বের হবেন। শুধু ভ্রমণের জন্য ভ্রমণ নয়। দেশের পতাকা নিয়ে ভ্রমণ। বাংলাদেশের বার্তা সারাবিশ্বের কাজে পৌছে দেয়াই তার উদ্দেশ্য।

চিন্তাটা কিন্তু এভাবেই বড় করে করতে হবে। কুয়োর ব্যাঙ হয়ে বসে থাকলে চলবে না। বেরিয়ে পড়তে হবে। নিজেকে প্রকাশ করতে হবে। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সবই সম্ভব। শুধু প্রচেষ্টা দরকার।

আরো পড়ুন : সফলতার জন্য যা প্রয়োজন, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা