kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো

মোস্তফা কামাল   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখবেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন আজ থেকে।

আমার এই লেখা তরুণদের উদ্দেশে। যারা সফল হতে চায় তাদের উদ্দেশে। পৃথিবীতে খুব কম মানুষই সোনার চামচ, রূপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়। বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কীভাবে উন্নতির শিখরে পৌছে গিয়েছিলেন? তিনি কি আলাদিনের কোনো চেরাগ পেয়েছিলেন! নিশ্চয়ই নয়। তাহলে শিখরে ওঠার পেছনের গল্পটা কী? 

নিশ্চয়ই আছে। 

গল্পটা হচ্ছে, জীবনের ডায়েরি থেকে ‘হতাশা’ শব্দটি তুলে দিতে হবে। ‘হতাশা’ বাদ দিয়ে ‘আশা’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে অনেক বড় করে। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। সব সময়ই ভাবতে হবে, স্বপ্নের চেয়েও অনেক বড় হবো আমি! যারা চাঁদে যাচ্ছেন, মঙ্গলে বসবাসের চিন্তা করছেন; কিংবা নতুন নতুন গ্রহ আবিষ্কার করছেন তারা কি ভিন্ন গ্রহ থেকে আশা কোনো এলিয়েন! নিশ্চয়ই নয়। তারাও মানুষ। আমাদের মতোই মেধাসম্পন্ন মানুষ। তাদের কাছে এমন কোনো যাদুর কাঠি নেই; যা দিয়ে তারা মহাকাশ জয় করছে। তাদের কাছে একটি জিনিসই আছে; তা হচ্ছে স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তারা মেধাকে কাজে লাগাচ্ছেন। 

আমি নিজেও কিন্তু সব সময় আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখি। মনে মনে ভাবি, স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে হবে আমাকে। আমি যে অবস্থানে উঠে এসেছি তার জন্য কোরো কোনো অবদান নেই। আমার কোনো চাচা, মামা, খালু নেই, যারা আমার উত্থানের পেছনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। আমার শক্তি একটাই, আমি অত্যন্ত আশাবাদী একজন মানুষ। কঠিন বিপদেও আমি আশা হারাই না। আমি অনেক বড় করে স্বপ্ন দেখি। 

আমি জানি, পৃথিবীতে হতাশাবাদী কোনো মানুষ কিছু করতে পারে না। কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না। হতাশা একটা ব্যাধি। একবার হতাশায় পেয়ে বসলে তার থেকে মুক্তি নেই। যত বড় বিপদই আসুক, ধৈর্য ধরতে হবে। ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুঃখের পরেই সুখ আসে। বিপদ কখনোই চিরস্থায়ী হয় না। সুখের দিন আসবেই। আঁধার কেটে আলো আসবেই।  

আমি নিজের কথাই বলি, আমি নিজেকে একজন সফল মানুষ বলে মনে করি। কী করে আমি সফল হলাম। আমার জন্ম বরিশালের এক পশ্চাদপদ গ্রামে। আমার বাবা একজন অতি সাধারণ স্কুল শিক্ষক। অল্প কিছু জমিজমা ছিল তার। চার চারজন ছেলে মেয়েকে পড়ালেখা করাতে অনেক বেগ পেতে হতো তাকে। আমি দেখেছি, মা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও মাথা ঠাণ্ডা রাখতেন। কোনো অবস্থাতেই ধৈর্য হারাতেন না। 

আমাদের বাড়ি কাছে ভালো কোনো স্কুল ছিল না। বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল থানা সদর স্কুল। অনেক পথ পায়ে হেঁটে, নদী পেরিয়ে স্কুলে যেতে হতো। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হতো। চার ভাইবোন একসঙ্গে লেখাপড়া করায় বাবা খরচ জোগাতে পারতেন না। তখন জমি বিক্রি করেও পড়ার খরচ জোগাতে হয়েছে। তখন পাড়াপ্রতিবেশিরা বলত, জমি বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ দেওয়া! এ আবার কেমন কথা! এতো পড়িয়ে কি হবে? 

মা বলতেন, বাচ্চারা লেখাপড়া না করতে পারলে জমি দিয়ে কি হবে? ওদের মানুষ করতে পারলে জমির কি দরকার?

আমরা চার ভাইবোনই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করে চাকরি বাকরি করে সুন্দর জীবনযাপন করছি। 

সব সময়ই ভাবতাম, আমাকে অনেক বড় হতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। কোনো দিন কারো মুখাপেক্ষি হবো না। 

সততা, একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠা থাকলে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সফলতা আসবেই। 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।  

মন্তব্য