মলত্যাগের সময় রক্ত দেখা গেলে অনেকেই প্রথমে ধরে নেন এটি পাইলসের সমস্যা। আবার কেউ কেউ লজ্জা বা অবহেলার কারণে বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তবে চিকিৎসকদের মতে, মলদ্বার থেকে রক্তপাতের পেছনে পাইলস, ফিসার কিংবা অন্যান্য সাধারণ কারণ থাকতে পারে, আবার কখনও এটি গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই রক্তপাতের ধরন, রঙ এবং এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার কারণ ও এর প্রতিকার নিয়ে এই প্রতিবেদন করেছে।
কেন হয় মলদ্বার থেকে রক্তপাত?
মলদ্বার থেকে রক্তপাতের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো পাইলস (অর্শ) এবং অ্যানাল ফিসার। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে মলদ্বারের শিরা ফুলে গিয়ে পাইলস বা ত্বকে ফাটল তৈরি হয়ে ফিসারের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পাইলস ও ফিসারের রক্তপাত কীভাবে আলাদা করবেন?
পাইলস হলে সাধারণত মলত্যাগের সময় ব্যথাহীনভাবে উজ্জ্বল লাল রঙের রক্ত বের হয়। অনেক সময় টয়লেটের কমোডে রক্তের দাগ দেখা যায়।
অন্যদিকে অ্যানাল ফিসারের ক্ষেত্রে রক্তপাতের সঙ্গে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি অনুভূত হয়। মলত্যাগের সময় বা পরেও এই ব্যথা কিছু সময় স্থায়ী হতে পারে।
কখন রক্তপাতকে বিপদসংকেত হিসেবে দেখবেন?
সব ধরনের রক্তপাতকে পাইলস ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, রক্তের রঙ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
যদি রক্ত উজ্জ্বল লাল হয় এবং অন্য কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে তা সাধারণত পাইলস বা ফিসারের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে রক্ত যদি কালচে লাল হয় কিংবা মল আলকাতরার মতো কালো দেখায়, তাহলে তা পরিপাকতন্ত্রের ভেতরে অন্য কোনো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে যেসব উপসর্গ
মলদ্বার থেকে রক্তপাতের পাশাপাশি যদি কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, বারবার দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন বা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ কোলোরেক্টাল ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অবহেলা নয়, প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসা
দেশে এখনও অনেক মানুষ মলদ্বার-সংক্রান্ত সমস্যাকে লজ্জার বিষয় মনে করেন। ফলে দীর্ঘদিন রক্তপাত হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এতে রোগ জটিল হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়ে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, মলদ্বার থেকে বারবার রক্তপাত হলে বা রক্তপাতের সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
সুস্থ থাকতে যা করবেন
মলদ্বার-সংক্রান্ত অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, মলদ্বার থেকে রক্তপাত সব সময় ভয়ংকর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হতে পারে। তাই অবহেলা নয়, সচেতনতাই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।




