kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বন্ড সুবিধায় অনিয়ম রোধে প্রথম বড় পদক্ষেপ

দেড় মাসে ৩২ লাইসেন্স সাসপেন্ড, ৫টি বাতিল

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেড় মাসে ৩২ লাইসেন্স সাসপেন্ড, ৫টি বাতিল

শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানি করতে বন্ড লাইসেন্স নিয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর পণ্য আমদানি না করে বসে আছেন; আবার পণ্য আমদানি করলেও নিয়মানুযায়ী অডিট রিপোর্ট জমা দিচ্ছেন না। বন্ড সুবিধার এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্ড কাস্টমস।

এর আগে বন্ড সুবিধার অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেও বন্ড কমিশনার সফল হতে পারেননি। কারণ পদক্ষেপ নিতে গেলে অনিয়মকারীরাই একজোট হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। পরে তারাই আবার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তদবির করে কমিশনারকে চাপ প্রয়োগ করে এবং বদলিও করে ফেলার নজির রয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে এনবিআর চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশে এপ্রিল থেকে গত দেড় মাসে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল নজরদারিতে এনে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাসপেন্ড বা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স বাতিলও করেছে বন্ড কমিশনারেট।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনার মোহাম্মদ আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় লাইসেন্স নিয়ে কাজ না করে বসে আছে। আবার কাজ করলেও নিয়মিত অডিট রিপোর্ট জমা দিচ্ছে না। তৈরি পোশাক শিল্পের স্বার্থে আমরা এক বছর ছাড় দিয়েছি কিন্তু তারা সুযোগের অপব্যবহার করেছে। তাই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কমিশনারের কঠোর নির্দেশে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

আজিজুর রহমান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রতিষ্ঠানের শুনানিতে অংশ নিয়ে দেখেছি, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সাল থেকেই পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নেই, অথচ লাইসেন্স নিয়ে বসে আছে। এতে রপ্তানিতে রাজস্ব ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শুনানিতে যে অবস্থা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে ৩২ প্রতিষ্ঠানের সব কটির লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। শুনানি শেষে আগামী সপ্তাহেই এর ফলাফল মিলবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে বন্ড সুবিধা পেতে লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার পাঁচ শর মতো। এর মধ্যে আট শতাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক শিল্পের, বাকি প্রতিষ্ঠান এক্সেসরিজের। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার প্রণোদনা হিসেবে এই বন্ড সুবিধা দিয়ে আসছে। মূলত বন্ড সুবিধার মাধ্যমে কম শুল্ক কিংবা শুল্ক ছাড়াই এসব পণ্য আমদানির সুযোগ পান দেশীয় উদ্যোক্তারা। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান এসব বন্ড সুবিধার সদ্ব্যবহার করলেও বেশির ভাগই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এর আগে চট্টগ্রামে যতবারই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, ততবারই চক্রটি একজোট হয়ে কমিশনারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সরকার ও দলের শীর্ষপর্যায়ে তদবির করে চাপ প্রয়োগ করে কমিশনারকেও বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান সরাসরি কঠোর হতে বলার পর সুফল মিলছে।

লাইসেন্স বাতিলের তালিকায় থাকা ৩২টি প্রতিষ্ঠানের একটি হচ্ছে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর মালিকানাধীন ম্যাক ফ্যাশন। গতকাল চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারের কাছে শুনানিতে যান তিনি নিজে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি এরশাদ উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে না পারায় আমি নিজেই ছয় মাস আগে এই লাইসেন্স বাতিলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। গতকাল গিয়ে বিদেশি ক্রেতা না থাকা, মার্কেটের ওপর কারখানার অনুমতি না থাকাসহ নানা কারণের কথা বলেছি।’ 

বন্ড কমিশনারেট সূত্র মতে, যে ৩২ প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের অভিযোগে লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে তার মধ্যে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে অনেক। এগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম দেবপাহাড়ে মেসার্স কোহিনুর অ্যাপারেলস, সদরঘাট এলাকার মেসার্স সামস ডি অ্যাপারেলস, ঈদগাহ ডিটি রোডের মেসার্স কার্নিভাল ফ্যাশন, ধনিয়ালাপাড়া ঠিকানার মেসার্স ট্রেড স্ক্যান লিমিটেড, দেওয়ানহাট ঠিকানার মেসার্স বেনিলাক্স অ্যাপারেলস, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার ইমন অ্যাপারেলস, চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স এএম সুয়েটার ও চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স সেঞ্চুরি (প্রা.)।

এ ছাড়া রয়েছে, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের মেসার্স এনজা টেক্সটাইল, চাক্তাইয়ের রাজাখালীর মেসার্স ইউনিটি ইন্ডাস্ট্রি (বিডি), কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর মেসার্স ইফকো গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর মিশন অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রি, এনায়েত বাজারের নিড ড্রেসেস (প্রা.), পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকার মেসার্স লিংক অ্যাকসেসরিজ, কেইপিজেডে অবস্থিত মেসার্স এসওএস আউটফিটার্স, দেওয়ানহাট ডিটি রোডের মেসার্স ফোর এইচ ইনটিমেটস, ঈদগাহ ডিটি রোডের মেসার্স সিমা গার্মেন্টস, কর্ণফুলী ইপিজেডের মেসার্স জেনফোর্ট শুজ (বিডি), ষোলশহর শিল্প এলাকার মেসার্স ইউনেসকো ফ্যাব্রিকস ওয়্যার, অক্সিজেন রৌফাবাদের মেসার্স টিকেএম গার্মেন্টস লিমিটেড।

এ ছাড়া সদরঘাটের মেসার্স গ্লোবাল স্পেশালাইজড, বন্দরটিলার প্রাইম ফ্যাশন, কালুরঘাটের গ্লোবাল অ্যাপারেলস, চান্দগাঁও হক মার্কেটের সাদমান ইন্টারন্যাশনাল, কালুরঘাটের মোহাম্মদী ইন্টারন্যাশনাল, রাজাখালী চাক্তাই এলাকার শ্যারন চৌধুরী অ্যাপারেলস, ডিটি রোড মনছুরাবাদের মেসার্স ডেইলিম টেক্সটাইল, আরাকান রোড চান্দগাঁওয়ের মেসার্স আল্লামা ফ্যাশন, বিসিক শিল্প এলাকা ফৌজদারহাট ঠিকানার মেসার্স আরএল ডেনিম, পুরাতন গির্জার মেসার্স মার্ক ফ্যাশনওয়্যার (প্রা.), চান্দগাঁও এলাকার মেসার্স নূপুর অ্যাপারেলস এবং গোসাইলডাঙ্গার মেসার্স ভ্যানগার্ড ফ্যাশন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা