kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

বসুন্ধরা শপিং মলে ঈদ কেনাকাটা জমজমাট

তানজিদ বসুনিয়া   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসুন্ধরা শপিং মলে ঈদ কেনাকাটা জমজমাট

রোজার ঈদ খুব কাছে। কেনাকাটা জমে উঠেছে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে। গতকাল ছুটির দিনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে কেনাকাটা তত জমে উঠছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে ক্রেতাদের জমজমাট উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। ব্যস্ততম শপিং মল বসুন্ধরায় গিয়ে গতকাল মনে হয়েছে, এ যে বিশাল জনসমুদ্র। এই শপিং মলে লোকসমাগম এতটাই হয়েছিল, এস্কেলেটরে উঠতে, শপিং মলে প্রবেশ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। 

বসুন্ধরা সিটির বেইসমেন্ট থেকে লেভেল ৭ পর্যন্ত সারি সারি দোকান সাজানো হরেক রকম পণ্যে। কী নেই এই পণ্য তালিকায়! টিভি থেকে শুরু করে মেয়েদের পোশাক, শাড়ি, জুতা-স্যান্ডেল, প্রসাধনী, গয়না, চশমা, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, বাচ্চাদের খেলনা, শোপিস, ছেলেদের পোশাক, গৃহস্থালিসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের সম্মিলন এই মলে। নামিদামি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা শুধু উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্তই নয়, মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্ন মধ্যবিত্তের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বসুন্ধরা। ফলে সারা বছরই ক্রেতার পদচারণে মুখরিত থাকে বসুন্ধরা শপিং মল।

মা-বাবা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে এসেছেন তানভীর আজাদ। তিনি বলেন, ‘বাবার পাঞ্জাবি, মায়ের জন্য শাড়ি আর আমার জন্য শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি কিনেছি। এখন আপার কেনাকাটা করব। সব কিছু বাজেটের মধ্যে কিনতে পেরে ভালো লাগছে।’

ঈদ উপলক্ষে শপিং মলের সব দোকানই সেজেছে ঈদের আমেজে। দোকানগুলোর সামনে বাহারি রঙের পোশাক টানিয়ে রেখেছে দোকানিরা। সবাই দোকানে তুলেছে হালের কালেকশন।

বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে বিক্রেতাদের দম ফেলার সময় নেই। দোকান ও শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের যেমন ভিড়, তেমনি ছিল দর্শনার্থী এবং পণ্যের দাম যাচাই করতে আসা মানুষেরও।

শালিমারের ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাত হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের কাঞ্জিবরণ এবং দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে সুতি শাড়ির চাহিদা বেশি। এর অধিক দামের শাড়ির চাহিদা কিছুটা কম। তবে অনেক মানুষ কিনছে, আবার কেউ কেউ দেখছে।’ 

ঈদ কেনাবেচা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ছেলেদের পোশাক বিক্রির দোকান কালার্সের বিক্রেতা নুর আলম হোসেন। তিনি জানান, রোজা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগমও বাড়ছে। আজ (গতকাল) প্রচুর লোক এসেছে। বিক্রি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ঈদ পর্যন্ত এ রকম চললে খুব ভালো ব্যবসা হবে।’ এই দোকানের শার্ট ও পাঞ্জাবির প্রতি বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকার শার্ট, এক হাজার ৬৯০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার পাঞ্জাবির প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ বলে তিনি জানান।

শুধু ঈদ বলে নয়, বছরজুড়েই রাজধানীবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে বসুন্ধরা শপিং মল। আর বরাবরের মতো এবারও ক্রেতাদের জন্য রয়েছে গাড়ি জেতার সুযোগ। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই শপিং মলে কেনাকাটা চলবে ঈদুল ফিতরের আগের দিন (চাঁদরাত) পর্যন্ত। প্রতি এক হাজার ৫০০ টাকার কেনাকাটায় একটি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবে ক্রেতা। যে যত বেশি কেনাকাটা করবে, তত বেশি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবে এবং পুরস্কার বিজয়ী হবে। পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট কার, ডায়মন্ড সেট, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, মিনিস্টার ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ডায়মন্ড রিং, স্মার্ট ফোনসহ নানা উপহারসামগ্রী।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা