kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এবারও এসএসসি পাসের পর ঝরে যাচ্ছে সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী

শরীফুল আলম সুমন   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




এবারও এসএসসি পাসের পর ঝরে যাচ্ছে সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একাদশ শ্রেণি এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে প্রায় সোয়া ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। বাকি প্রায় সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পড়ালেখা থেকে এই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়লেও যেন বৃত্তিমূলক শিক্ষা পায় তা নিশ্চিতে সরকারকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে বললেন শিক্ষাবিদরা। প্রয়োজনে এসব শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনার কথা বললেন তাঁরা।

দেশের আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডে একাদশে প্রথম ধাপে ভর্তির আবেদন শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এই ধাপে আবেদন করেছে মোট ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থী। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ভর্তি আবেদন চলছে। সেখানে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আবেদন করেছে ৪৭ হাজার ৮৭৯ জন। আর বেসরকারি পলিটেকনিক মিলিয়ে কারিগরিতে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। এ ছাড়া রাজধানীর নটর ডেম কলেজ, সেন্ট যোশেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হলি ক্রস কলেজ পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে। এ ছাড়া একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপেও আরো কিছু শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করবে। ধারণা করা হচ্ছে, সব মিলিয়ে সোয়া ১৫ লাখ এসএসসি ও সমমানের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ভর্তির আওতায় আসবে।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থীর একটি অংশ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে তারা ভর্তি

হবে না। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কারিগরি বোর্ডের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিন মাস বা ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নেবে। কেউ কেউ কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঘরে বসে থাকবে। আরেকটি অংশ পরিবারকে সহায়তা করতে নানা ধরনের কাজে যোগ দেবে। আর মেয়েদের যে অংশটা পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়বে, তাদের অনেকে বাল্যবিয়ের শিকার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসএসসি উত্তীর্ণ সকলেরই যে সাধারণ শিক্ষায় ভর্তি হতে হবে এর যুক্তিকতা আমি দেখি না। কেউ কেউ যদি যুব উন্নয়ন বা ভোকেশনালে ভর্তি হয়ে নিজ উদ্যোগে কিছু করে সেটা ভালো দিক। এতে তাদের পরিবারও উপকৃত হয়। আর সে যদি সাধারণ শিক্ষায় ভর্তি হয়, তাহলে হয়তো পড়ালেখা শেষ করেও চাকরি পাবে না। কিন্তু সবাই যে ভোকেশনাল শিক্ষা নিচ্ছে তা তো নয়। সরকারের উচিত হবে বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ আরো প্রসারিত করা। যারা একাদশে ভর্তির আওতায় এলো না, তাদের চিহ্নিত করে বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে কারিগরিতে শিক্ষার্থী বাড়ানোর ব্যাপারেও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘এসএসসি উত্তীর্ণ বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই আসে সাধারণ শিক্ষায়। কিছু শিক্ষার্থী যায় কারিগরি শিক্ষায়। যারা কোনো কিছুতেই ভর্তি হয় না তাদের একটা বড় অংশ কিছুদিন পরে বিদেশে যায়। এখন এই অংশ নিয়েই আমাদের আরো বেশি কাজ করতে হবে। যারা বিদেশে যায়, তাদের প্রত্যেকে যেন কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে যায়। এতে তারা দ্বিগুণ আয় করতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেখা যায় যারা বিদেশে যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিচ্ছে না। আর এসএসসির পর গ্রামের মেয়েরা বড় সমস্যায় পড়ে। দেখা যায়, স্কুলের মতো কলেজ অতটা কাছে নয়। পরিবার মনে করে, আর পড়ালেখার দরকার নেই। এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা