kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মোহাম্মদপুরের আকর্ষণ ফ্যাশন ও বুটিক হাউসে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোহাম্মদপুরের আকর্ষণ ফ্যাশন ও বুটিক হাউসে

ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোর ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। থ্রি-পিসে কারচুপির কাজে ব্যস্ত এক কারিগর। ছবিটি রাজধানীর তালতলা মার্কেট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ঈদ বাজারে মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবরের চিত্রটি ভিন্ন। আশপাশে বড় শপিং মল না থাকলেও অসংখ্য ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস, বুটিক হাউস। প্রতিটি ফ্যাশন হাউসে এখন রমরমা অবস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখা যায়, জমজমাট মোহাম্মদপুর-রিং রোড এলাকার ঈদ বাজার। শুধু পোশাক নয়, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রীর দিকে ঝুঁকেছে ক্রেতারা। এখানকার ছোট ও মাঝারি আকারের কিছু শপিং মলেও বিক্রিবাট্টা ভালো।

তীব্র যানজট ও গরম উপেক্ষা করে মোহাম্মদপুর ও এর আশপাশের নানা এলাকায় মানুষ এখন ছুটছে কেনাকাটায়। মোহাম্মদপুর রিং রোড সংলগ্ন কৃষি মার্কেটে রয়েছে জামাকাপড়ের অনেক দোকান। এ ছাড়া রয়েছে কিছু বুটিক ও ফ্যাশন হাউস। স্নেহা ফ্যাশন হাউসে ঢুকে দেখা যায়, গিজগিজ করছে মানুষ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কর্মকর্তা সানজিদা স্নেহা বলেন, ঈদ উপলক্ষে বরাবরই ভিড় বেশি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এবার গরম বেশি থাকায় হালকা ও সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি।

মোহাম্মদ রিং রোডের মারিয়া বুটিক হাউসে দেখা গেল প্রচুর ভিড়ভাট্টা। ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন বসিলার বাসিন্দা মাজেদা বেগম। কথা প্রসঙ্গে মাজেদা বেগম বলেন, ‘প্রচণ্ড যানজট পেরিয়ে দূরের শপিং মলে গিয়ে কেনাকাটা কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থায় মোহাম্মদপুরের বুটিক হাউসগুলোর চাহিদা রয়েছে। কাপড়ের মান ও ডিজাইন অনুসারে দামও তুলনামূলক কিছুটা কম মনে হয়।’

মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন অলিগলিতে নানা দেশি ফ্যাশন হাউসের উপস্থিতি। নুরজাহান রোড, শিয়া মসজিদ থেকে শুরু করে রেসিডেনসিয়াল টিচার্স কোয়ার্টার পর্যন্ত তাজমহল রোডজুড়েই দেখা যায় দেশি ফ্যাশন হাউসের ছড়াছড়ি। ফড়িং, রূপশৈলী, এম এম ক্র্যাফট, ময়ূরাক্ষী ইত্যাদি ফ্যাশন হাউসে প্রচুর ভিড়। দোকানিরা জানায়, বিক্রি মন্দ নয়।

তাজমহল রোডের সঙ্গেই নুরজাহান রোড। এই রোডেও রয়েছে নানা দেশীয় ফ্যাশন হাউস। ছেলেদের পোশাকের যেমন ফ্যাশন হাউস রয়েছে, মেয়েদেরও তেমন। তুলনামূলকভাবে মেয়েদের ফ্যাশন হাউস বেশি। ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, লোকাল পাঞ্জাবি রয়েছে এখানে। রয়েছে লোকাল গার্মেন্টে তৈরি মেয়েদের থ্রিপিস। বাচ্চাদের কাপড়ও দেখা যায় কয়েকটি ফ্যাশন হাউসে।

পোশাক নয়, জুতাও নয়, নানা ধরনের অলংকার নিয়ে মোহাম্মদপুরের রিং রোডে দোকান ‘পায়েল’। ঈদ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এখানে পাওয়া যাবে নানা কসমেটিকস আর গয়না। এখানকার বিক্রয়কর্মী আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে অলংকার আমদানি করি। পাশাপাশি দেশে তৈরি নানা অলংকারও বিক্রি করি। অলংকারের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে।’

গতকাল বিকেলে আসাদ গেট ধরে মোহাম্মদপুরের দিকে যেতেই দেখা যায় তীব্র যানজট। আশপাশের কল্যাণপুর, শ্যামলী, টাউন হলসহ নানা এলাকায় যানজট লেগেই ছিল। কেনাকাটায় উৎসাহী মানুষ যানজটের ধকল কাটিয়ে ঘুরেছে নানা শপিং মলে।

টাউন হলে দেখা হয় আবদুল হাসনাতের সঙ্গে। কল্যাণপুরের বাসিন্দা তিনি। সপরিবারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মোহাম্মদপুরে। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রতি আমার স্ত্রী ও কন্যাদের আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকেই তারা নানা কিছু কেনে।’

বিভিন্ন বুটিক হাউসে কথা বলে জানা গেল, ঈদ বাজারে নারীদের পোশাকের চাহিদাই বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পছন্দের নকশার পোশাক তৈরিতে নারীরা ছুটছে টেইলার্সগুলোতে। গোটা মোহাম্মদপুর এলাকায় রয়েছে নানা টেইলার্স হাউস। এ ছাড়া শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি। কিছু শপিং মলে হাল ফ্যাশন নির্ভর ভারত ও পাকিস্তানের পোশাক বিক্রি হলেও ফ্যাশন হাউস ও বুটিক হাউসে বিক্রি হচ্ছে দেশে তৈরি পোশাকই।  শ্যামলীর আদাবর রিং রোডের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, রমজান শুরুর পর আস্তে আস্তে ভিড় বাড়ছে। প্রতি রমজানে সাধারণত এ সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়। এখন থেকে দিন যত যাবে ভিড় তত বাড়তে থাকবে। স্থানীয় দোকানিরা জানায়, ক্রেতার সুবিধার্থে ঈদের আগে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছে তারা। ইফতারের পর থেকে রাত পর্যন্ত অনেককেই দেখা গেছে কেনাকাটা করতে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা