kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

আদালতে তলব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে

৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে বিএসটিআইকে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




আদালতে তলব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে

ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও জব্দ করার আদেশ বাস্তবায়ন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৬ জুন তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আদেশ প্রতিপালন না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন উচ্চ আদালত। দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় মান সংস্থা বিএসটিআইকে আরো ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন আগামী ১৬ জুনের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বিএসটিআই ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে এই ৯৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও জব্দ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ১২ মে এক আদেশে নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বিক্রি বন্ধ ও বাজার থেকে জব্দ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি পৃথকভাবে দুটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, ‘আপনারা হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন? আপনারা আমাদের আদেশ কেন বাস্তবায়ন করেননি? আজ পর্যন্ত একটি মসলার প্যাকেটও জব্দ করেননি। সারা দেশ থেকে একটি প্যাকেটও জব্দ করতে পারলেন না? আপনার কার্যালয়ের পাশের দোকান থেকে ১৭ জন মিলেও একটি মসলার প্যাকেট জব্দ করতে পারেননি। বড় বড় কম্পানিকে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে চাকরি করার দরকার কী? ঘরে গিয়ে রান্নাবান্না করুন। ব্যাংকে গিয়ে কেরানির চাকরি নিন। বসে বসে টাকা গুনবেন, টাকার হিসাব রাখবেন।’

এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকল জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছি। ৫২টি মামলা করেছি। আর সারা দেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন পাইনি। তাই এই মুহূর্তে আদালতকে জানাতে পারিনি।’

এ বক্তব্যে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যবস্থা নিতে অন্যদের কাছে চিঠি দিতে আপনাদের কে বলেছে? আপনাদের প্রতি আমরা নির্দেশ দিলাম। আপনারা নিজেরা দায়িত্ব পালন না করে অন্যদের চিঠি দেন। আবার বলছেন, এখনো সারা দেশ থেকে প্রতিবেদন আসেনি। উল্টাপাল্টা বলবেন না। আপনারা যা করেছেন তা আইওয়াশ মাত্র।

অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আপনারা আপনাদের কাজ অব্যাহত রাখবেন।’

এদিকে এসিআই লবণ কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ আদেশ সংশোধনের আবেদন জানান। প্রাণ কম্পানির পক্ষে আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, ‘বিএসটিআই আমার তিনটি পণ্যের বিষয়ে আপত্তি করেছে। কিন্তু আমার সব পণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই ওই তিনটি পণ্যের নির্ধারিত ব্যাচ বাদে সব ছাড় চাচ্ছি।’ আদালত তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, ৫২টি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যদি কেউ পণ্য বাজারজাত করতে চায় তাহলে সে ক্ষেত্রে তাদের পণ্য বিএসটিআই থেকে পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে। এই পুনঃপরীক্ষার প্রতিবেদন সর্বোচ্চ ১৩ জুনের মধ্যে প্রকাশ করতে বিএসটিআইয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। এ ছাড়া সান চিপসের (কাশেম গ্রুপ) পক্ষে ব্যারিস্টার তানজিব-উল-আলম এবং বাঘাবাড়ি ঘি কম্পানির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মমতাজউদ্দিন মেহেদী।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা