kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ময়মনসিংহে শিশু হাসপাতাল নির্মাণ

হাতে বরাদ্দের টাকা, জমিটাই মিলছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতে বরাদ্দের টাকা, জমিটাই মিলছে না

ময়মনসিংহ শহরে একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে অনেক আগেই। তবে জুতসই সরকারি জমি না পাওয়ায় এ হাসপাতাল নির্মাণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ শেষ করা না গেলে ৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকা মেলে। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদনও মেলে প্রায় দেড় বছর আগে। পরে জমির খোঁজে মাঠে নামে গণপূর্ত বিভাগ। আধুনিক মানের শিশু হাসপাতালের জন্য কমপক্ষে এক একর জমির প্রয়োজন। এ নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা আলোচনা চললেও জমির খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।

শিশু হাসপাতাল নির্মাণে অনিশ্চয়তার বিষয় নিয়ে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগ হন্যে হয়ে জায়গা খুঁজতে থাকে, কিন্তু এক একর জায়গা একসঙ্গে সুবিধাজনক স্থানে পাওয়া যায়নি। শহরের এসকে হাসপাতাল ভবন এলাকায় হাসপাতালটি নির্মাণের কথা ভাবা হলে সেখানেও দুটি নেতিবাচক বিষয় উঠে আসে। প্রথমত, এসকে হাসপাতালের জমিদাতা সূর্য্যকান্ত পুরনো ভবন ভাঙার ব্যাপারে জমির দলিলে আপত্তি দিয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পাশে শিশু হাসপাতাল না করারও মত দেন অনেকে। এর বাইরে শহরের অন্য এলাকায় জমি খোঁজা হলেও কোনো ইতিবাচক ফয়সালা এখনো হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ ব্যাপারে প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে। এখন জমি বরাদ্দ হলেই দরপত্র দেওয়া হবে। নির্মাণকাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করতে হবে। কাজ এখনই শুরু করা না গেলে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাবে না। বরাদ্দ টিকিয়ে রাখাও কষ্টকর হবে।

শহরবাসী জানায়, বর্তমানে শিশুদের চিকিত্সা হয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রোগীর এত ভিড় যে এক বেডে তিন শিশুকে রাখতে হয়। ওয়ার্ডে পা ফেলার জো নেই।  এ রকম প্রেক্ষাপটে একটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ ময়মনসিংহবাসীর জন্য আশীর্বাদ। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আব্দুর রব বলেন, হাসপাতালটি খুবই জরুরি। চিকিত্সক-অভিভাবক সবারই হাসপাতালটি ঘিরে অনেক প্রত্যাশা। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটি নির্মাণের ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা ইয়াসমীন রুনা বলেন, ‘শহরে একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণ সময়ের দাবি। যেভাবেই হোক হাসপাতালটি যেন নির্মিত হয়।

গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। জমি পেলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নিজেও হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য জমির খোঁজ করছি, কিন্তু প্রধান সড়কের পাশে একসঙ্গে এত জমি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তবে জেলা প্রশাসক জানান, শহরের একটি স্থান তাঁরা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে কিছুটা এগিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা