kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিক্ষোভের মুখে ঝালকাঠিতে ধান কেনা শুরু

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্ষোভের মুখে ঝালকাঠিতে ধান কেনা শুরু

কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে ঝালকাঠিতে সরকারিভাবে বোরো ধান কেনা শুরু হয়েছে। খাদ্যগুদামের সামনে গতকাল বুধবার সকালে কৃষকরা ধান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার পর ধান কিনতে বাধ্য হয় খাদ্য বিভাগ। কৃষকদের অভিযোগ, ধান বিক্রির জন্য খাদ্য বিভাগে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মিলছিল না। এ অবস্থায় ধান নিয়ে বিপাকে পড়ে কৃষক। এদিকে মঙ্গলবার একজন কৃষকের কাছ থেকে ছয় টন ধান কেনা হয়েছে, এমন খবরে শতাধিক কৃষক তাদের ধান নিয়ে

খাদ্যগুদামের সামনে অবস্থান নেয়। পরে জেলা প্রশাসক গিয়ে তাদের শান্ত করে ধান কেনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

সরকার গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান কেনা কার্যক্রমের ঘোষণা দেয়। এই কার্যক্রমের আওতায় ঝালকাঠি জেলায় এ বছর তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে মোট ৩২১ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২ মেট্রিক টন এবং নলছিটি উপজেলায় ১৫৯ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কার্যক্রম শুরুর এক মাস পার হতে চললেও সরকারিভাবে এ জেলায় ধান কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

অন্যদিকে ঈদের পর ধান কেনা হবে বলে খাদ্য বিভাগ ঘোষণা দেয়। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কৃষকরা। খাদ্য বিভাগ ঈদের পরে ধান কেনার ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার একজন কৃষকের কাছ থেকে ছয় মেট্রিক টন ধান কিনে গুদামজাত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান নিয়ে জেলা খাদ্যগুদামের সামনে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, এক কৃষকের কাছ থেকে ছয় মেট্রিক টন ধান কেনা হয়নি। ওই দিন কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকায় নমুনা হিসেবে এটা গুদামে রাখা হয়েছে।

খাদ্যগুদামে ধান নিয়ে আসা বাসন্ডা ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ্জাহান, চৌপলা গ্রামের জয়নাল আবেদিন, তাজিনূর বেগম, নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের শেখ নূরুল আমিনসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘খাদ্যগুদামের কিছু অসাধু কর্মকর্তা গত বছর নিয়ম ভঙ্গ করে একটি ইউনিয়ন থেকে ধান কেনেন। এতে অন্য কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এবার সরকার গত ২৫ এপ্রিল ধান কেনা শুরু করলেও আজ পর্যন্ত আমাদের ধান না কিনে গুদাম কর্মকর্তারা দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁরা কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে গুদামজাত করার পাঁয়তারা করছেন।’

ঝালকাঠি খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা গাজী মো. মাজহারুল আনোয়ার বলেন, এক কৃষকের কাছ থেকে ছয় মেট্রিক টন ধান কেনা হয়নি। ওই দিন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা থাকায় নমুনা হিসেবে এটা গুদামে রাখা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে ধান কেনার বস্তা মজুদ রয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক ধান উৎপাদনের তালিকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় এ কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে।’

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, জেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্র কিছুটা কম হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনা হবে। ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে ধান কেনার কোনো অভিযোগ এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা