kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রেল কর্তৃপক্ষের অদক্ষতায় টিকিট কিনতে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেল কর্তৃপক্ষের অদক্ষতায় টিকিট কিনতে ভোগান্তি

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং সেই সঙ্গে বিক্রয় বিকেন্দ্রীকরণ করেও ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি কমাতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। বরং রেল কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও টিকিট বিক্রিতে অব্যবস্থাপনার কারণে এই ভোগান্তি বেড়েছে। আগে কাউন্টারে ছিল ‘টিকিট নেই’ রব। এখন ‘রেলসেবা’ অ্যাপ ও অনলাইনে তৈরি হয়েছে দুর্ভোগ। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার। মোবাইল ফোনে ‘রেলসেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কেনা যাবে—রেলমন্ত্রীর এমন আশ্বাস পেয়ে কাউন্টারে যায়নি অনেকেই। কিন্তু সকাল থেকেই অ্যাপে ঢুকতে পারেনি

টিকিটপ্রত্যাশীরা। সে কারণে অনেকেই টিকিটের জন্য যানজট ঠেলে টিকিট কাউন্টারে গেছে, দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে, কিন্তু টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে পরে ছুটেছে বাসের আগাম টিকিটের জন্য বিভিন্ন টার্মিনাল ও কাউন্টারে।

দুপুরে হানিফ পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারের সামনে টিকিটের জন্য অপেক্ষারত শামীমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্বল অ্যাপ দিয়ে টিকিট সহজে মিলবে বলে ঈদযাত্রীদের হয়রানিতে ফেলেছে রেলওয়ে। অন্যদিকে টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই প্রভাবশালীরা কাউন্টারে ঢুকে বুকিং সহকারীর কাছ থেকে টিকিট নিচ্ছে। আমি বলব, এবার নিজের অদক্ষতায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছে।’

গত ২৮ এপ্রিল নিজে উদ্বোধন করলেও ‘রেলসেবা’ অ্যাপ নিয়ে গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রকাশ্যেই রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রির অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যান রেলমন্ত্রী। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ব্যর্থতা ও দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘রেলসেবা’ অ্যাপ পরিচালনাসহ টিকিট পদ্ধতি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ই-টিকেটিং সেবা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে না পারলে অবিক্রীত টিকিটগুলো ২৭ মে কাউন্টারে দেওয়া হবে।

এবার অ্যাপে টিকিট বিক্রি পরিচালনা করছে সিএনএসবিডি (কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম, বাংলাদেশ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারলে আগামী সেপ্টেম্বরে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী আসার কিছুক্ষণ আগে অনলাইনে টিকিট পেতে ভোগান্তির অভিযোগে সকাল ১০টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের সার্ভার রুমে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সদস্যের একটি দল। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থার সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন। তাঁরা অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের সার্ভারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

অভিযান শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা টিকিট সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে এসেছি। এখানে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমের সার্ভারের কর্মকর্তারা বলেছেন, সার্ভার ডাউন হয়ে যাচ্ছে। তাই টিকিট পেতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সার্ভার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে।’

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, এবার অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। হটলাইনে পাওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়, টিকিট বিক্রি শুরুর পর থেকেই অ্যাপটি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। গ্রাহক টিকিট কিনতে পারছে না। অভিযানে এসেও ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আগামী ৫ জুন ঈদুল ফিতর হতে পারে ধরে নিয়ে লোকজন রাজধানী থেকে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩১ মে যাত্রার টিকিট। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে গ্রাহকরা ভিড় করে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টারে। তাদের একজন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নাইমুর রহমান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজশাহী যাওয়ার জন্য এসি টিকিট নিতে এসেছি, কিন্তু পাচ্ছি না।’

তেজগাঁও থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি করা হয়। সকাল থেকে সেখানেও ভিড় ছিল। তবে কম ভিড় ছিল বনানী বিক্রয়কেন্দ্রে। সেখান থেকে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়।

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া (পুরান রেলওয়ে স্টেশন) বিক্রয়কেন্দ্রেও ভিড় কম ছিল। সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয় সেখানে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, বিশেষ ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে শুক্রবার থেকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা