kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে রিস্ক অ্যানালিসিস

সজীব হোম রায়   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে রিস্ক অ্যানালিসিস

আগামী অর্থবছরের বাজেটে আয়কর, শুল্ক ও মূসকের বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চাইছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষ করে শুল্ক খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা বলছে এনবিআর। ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কোনো যাত্রী বাংলাদেশে আসার আগেই রিস্ক অ্যানালিসিস করা সম্ভব হবে। ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা আরো বাড়বে। একই রকমভাবে কোনো পণ্য বন্দরে আসার আগেই রিস্ক অ্যানালিসিস করা হবে। এতে রাজস্ব ফাঁকি অনেক কমে আসবে। আগামী অর্থবছরেই এগুলো চালু করা হবে। আগামী বাজেটের জন্য এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে এনবিআর। সংস্থার পক্ষ থেকে বাজেট বক্তৃতায় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, এনবিআরের প্রতিবেদনে আয়কর, শুল্ক ও মূসকের খাতভিত্তিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে শুল্ক খাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবছর এ খাতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন খাতে শুল্কহার নমনীয় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিকে মনোযোগী হতে চাইছে এনবিআর। বিশেষ করে যাত্রী ও পণ্য দেশে আসার ক্ষেত্রে আরো কঠোর হতে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় সংস্থাটি।

যাত্রীদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী আসার আগেই এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাত্রীর তথ্য নেওয়া হবে। এতে যাত্রীর রিস্ক অ্যানালিসিস করা হবে। আর এ জন্য অ্যাডভান্স পেসেঞ্জার ইনফরমেশন (এপিআই), পেসেঞ্জারদের নামের রেকর্ড (পিএনআর) সিস্টেম চালু করা হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর যাত্রীদের গ্রিন চ্যানেল ও রেড চ্যানেল সম্পূর্ণরূপে চালু করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে আগামী অর্থবছরে। পণ্যের ক্ষেত্রেও একই রকম বিষয় চালু করা হবে আগামী অর্থবছর থেকে। এ লক্ষ্যে একটি আইনি কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছে এনবিআর। আগামী অর্থবছরেই এটি কার্যকর করা হবে। এতে প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং (পিএপি) বা পণ্য বন্দরে আসার আগেই রিস্ক অ্যানালিসিস করে শুল্কায়ন সমাপ্ত করা হবে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি পণ্যও দ্রুত ছাড় করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আগামী অর্থবছরে কর জিডিপি অনুপাত ১৫.৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ ও করনেটের আওতা বাড়ানো হবে। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় নির্মিত ন্যাশনাল হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে ইত্যাদি অবকাঠামো খাতকে শর্ত সাপেক্ষে যে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আগামী অর্থবছরেও তা অব্যাহত থাকবে।

এনবিআরের প্রতিবেদন মতে, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য নজর দেওয়া হচ্ছে নতুন বাজেটে। কোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য বিশেষ সেবা সুবিধা না রাখলে বর্তমানে প্রযোজ্য করের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে। এ ছাড়া কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থা সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত অগ্রাধিকার খাতগুলোর জন্য কর প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিমুখী কর তথ্য ইউনিট গঠন করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে, এটি দেশের অন্যান্য সিস্টেমের সঙ্গে আন্ত সংযুক্ত থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য লাভ করবে এবং কর ফাঁকি উদ্ঘাটন ও করদাতা চিহ্নিতকরণে কাজ করবে।

মূসকের বিষয়ে এনবিআর বলেছে, বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত ১০-এর কাছাকাছি। অন্যদিকে ভ্যাট-জিডিপি অনুপাত ৩.৬। অনলাইনভিত্তিক মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে ভ্যাট-জিডিপি অনুপাত ৪.৭০-এ উন্নীত হবে বলে আশা করছে এনবিআর। ফলে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত, যেমন—রূপপুর, বেজা, হাইটেক পার্ক, পিপিপি ইত্যাদিকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া অব্যাহত থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা