kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

তিন মন্ত্রণালয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান!

৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস। শূন্য হলো স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ, যুক্ত হলো তথ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন মন্ত্রণালয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান!

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর হঠাৎ করেই গতকাল রবিবার পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে বণ্টন করেছেন।

এ পুনর্বিন্যাসপ্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব কাটছাঁট করা হয়েছে। দায়িত্ব বেড়েছে ওই দুটি মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রীর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়ে গেছে। তাঁর স্থলে তথ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর পদ।

জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা কেবলই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজে আরো গতিশীলতা আনয়নের জন্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো বিষয় নেই।’

গতকাল বিকেলে মন্ত্রিপরিষদের এই ছোট পুনর্বিন্যাসের পর এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও খাতের লোকজনের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষ কিছুদিন ধরে চলতে থাকা চাপা আলোচনা সরব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পাঁচ মাস আগে সরকার গঠনের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। কিছু ক্ষেত্রে এ সমন্বয়হীনতা অন্তর্দ্বন্দ্বের পর্যায়ে চলে যায় বলে এসব মন্ত্রণালয়ের ভেতর-বাইরে জানাজানি হয়। এ ছাড়া কোনো কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীদের ভেতরও প্রশ্ন ওঠে।

সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে কালের কণ্ঠ’র কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, ‘প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে খুবই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। আর এ পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে আপাতত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রের তথ্যানুসারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ভেতর সম্প্রতি কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় চিকিৎসকদের বিষয়ে কিছু বিরূপ মন্তব্য করা নিয়ে। পাশাপাশি প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গেও তাঁর খুব একটা সন্তোষজনক সম্পর্ক ছিল না বলেও জানায় কেউ কেউ।

অবশ্য জানতে চাইলে গতরাতে ডা. মুরাদ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আগে কিছুই জানতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী যেটা ভালো মনে করেছেন, তা-ই করেছেন। এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। তিনি যেখানে যে দায়িত্ব দেবেন, তা-ই পালন করব।’

পুনর্বিন্যাসপ্রক্রিয়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলককে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে শুধুই স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য।

 


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা