kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রীর উপহার

কলসিন্দুরের ফুটবলকন্যারা পেল সরকারি বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলসিন্দুরের ফুটবলকন্যারা পেল সরকারি বিদ্যালয়

ফাইল ছবি

ফুটবলে দেশের জন্য খ্যাতি বয়ে আনা ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার সেই ফুটবলকন্যাদের স্কুল কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ থেকে। ফুটবলকন্যাদের দাবি মেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলটি সরকারি করে দেওয়ায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) সহকারী অধ্যাপক ও কলসিন্দুর নারী ফুলবল দলের ম্যানেজার মালা রানী সরকার জানান, গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হাসানের কাছ থেকে এসংক্রান্ত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুত্ফুন্নাহার প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন গত ১৬ মে।

এ প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জন মেয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলছে। তারা হলো তহুরা সানজিদা, মারিয়া, মার্জিয়া, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), শামসুন্নাহার (জুনিয়র), নাজমা, শিউলি, পূর্ণিমা, তানিয়া, সাজেদা, রোজিনা প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান বলেন, ‘কলসিন্দুরের মেয়েরা জাতির গর্ব। তারা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অসাধারণ ফুটবল খেলে বিজয়ী হয়ে দেশকে অন্যতর মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছে। তারা তাদের স্কুলটি সরকারি করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের আবদার পূরণ করেছেন।’ রাফিকুজ্জামান জানান, গত বছরের শেষ দিকে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফুটবলকন্যারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের স্কুল সরকারীকরণের দাবিটি জানিয়েছিল।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কলসিন্দুর এলাকাটি এমনিতে পশ্চাৎপদ। সেখানে হাই স্কুল সরকারি করে দেওয়া ফুটবলকন্যাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। প্রত্যন্ত এ এলাকায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার প্রসার ঘটবে।’

প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবদুল কাদের বলেন, ‘আজ অনেক আনন্দ লাগছে। আমাদের ফুটবলকন্যাদের কারণেই এ প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী সরকারি করে দিয়েছেন। আমরা সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।’

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রতন মিয়া বলেন, ‘আমরা সবাই আজ অনেক অনেক খুশি। আমাদের মেয়েরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করতে। প্রধানমন্ত্রী সেই দাবি পূরণ করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

ফুটবলকন্যারা বর্তমানে বাফুফের ক্যাম্পে থাকায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানা এ প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার ২০০। প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু হয় ১৯৯৫ সাল থেকে।

গত মঙ্গলবার ভোরে বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষে রহস্যজনক আগুনে মেয়েদের খেলার সনদপত্র, মেডেল (পদক), শিক্ষকদের সনদপত্র, রেজল্যুশন বইসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কারা, কী কারণে ওই আগুন দিয়েছে, তা গত ছয় দিনেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এই আগুনের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা