kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস

দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে পারে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’

জহিরুল ইসলাম   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে পারে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সামনে ও ভেতরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে পারে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমেই একমাত্র এই দালালচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই সঙ্গে সেবা দেওয়ার পদ্ধতি করতে হবে সহজ থেকে সহজতর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমত গ্রাম থেকে আসা একজন মানুষের শহরের একটি দপ্তরে এসে কাজের ধরন বা পরিবেশ বুঝতে সমস্যা হতেই পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পূরণ করতে অপারগতার কারণে বেশির ভাগ সময়ে দালালদের খপ্পরে পড়ছে তারা। এর সমস্যার হয়তো সমাধান হচ্ছে; কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে প্রতারিতও হতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অনেকেই কাগজপত্র সত্যায়িত করা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, কাগজপত্র ঠিক করা, জমা দেওয়াকে ঝামেলা মনে করে দালালদের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে।

কেমন হতে পারে ওয়ান স্টপ সার্ভিস—সে সম্পর্কে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে একজন গ্রাহক শুধু তার জাতীয় পরিচয়পত্র আর প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে এলেই হবে। কমপক্ষে আট থেকে ১০টি হেল্প ডেস্ক থাকবে, যেখানে মানুষ সিরিয়াল অনুযায়ী সহায়তা নেবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই তিনি যে বাংলাদেশি, তা প্রমাণিত হয়ে যাবে। এরপর বাকি কাজ করে দেবে হেল্প ডেস্ক। সব কাজ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না খবর নেবে। যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকে, তাহলে তার কাজ শেষ। এখানে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন, কাগজপত্র সত্যায়িত করার ঝামেলা নেই। এ ধরনের সেবা বিভিন্ন দপ্তরে চালু করা গেলে সাধারণ মানুষ খুব সহজে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে।

সারোয়ার আলম আরো বলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষ যখন একটি সরকারি দপ্তরে আসে, অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। তখন অন্যের সহযোগিতা নিতেই পারে। এই সুযোগ নেয় দালালচক্র। তাদের দৌরাত্ম্য কমাতে হলে সরকার বা ওই দপ্তরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয়, সেখানে তাকে কেন আবার বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়িত করে নিয়ে আসতে হবে? এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মানুষকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যেখানে দেশের সামান্যসংখ্যক মানুষ অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, সেখানে সবাইকেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হেনস্তা করা হচ্ছে। সব ধরনের কাজ শেষ হলে তারপর পুলিশের কাছে তথ্য চাওয়া যেতে পারে যে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না। মাত্র ২ শতাংশ মানুষ পাওয়া যেতে পারে, যাদের বিরুদ্ধে হয়তো মামলা আছে। কিন্তু এর জন্য বাকি ৯৮ শতাংশ মানুষ বিপাকে পড়ছে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করলে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব হবে মনে করেন ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও। গতকাল শনিবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই সার্ভিস খুব দ্রুত চালু হবে। কিছু খালি জায়গা এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে কয়েকটি সংস্থার হেল্প ডেস্ক থাকবে, যেখানে সহায়তার জন্য কিছু ফি নেওয়া হবে।’

মন্তব্য