kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সবিশেষ

সবচেয়ে বড় প্রাণীর হদিস!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবচেয়ে বড় প্রাণীর হদিস!

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি বিশালাকার একটি নীল তিমির জীবাশ্ম। ইতালির সান গিউলিয়ানা লেকের পাশে এর সন্ধান মিলেছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এ প্রাণী দৈর্ঘ্যে ৮৫ ফুট ছিল। ওজন ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টন। অর্থাৎ এক লাখ ১৭ হাজার কিলোগ্রাম থেকে এক লাখ ৩৬ হাজার কিলোগ্রাম ওজন।

একটি আফ্রিকান হাতির ওজন ছয় হাজার ৩৫০ কিলোগ্রামের মতো এবং এশিয়ান হাতির ওজন পাঁচ হাজার ৪০০ কিলোগ্রামের মতো। অর্থাৎ যে নীল তিমির জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ২১টি আফ্রিকান হাতি কিংবা ২৫টি এশিয়ান হাতির সমান! আর দৈর্ঘ্যে? প্রায় তিনটি লরির সমান। এখন পর্যন্ত যত জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি বর্তমানে যেসব নীল তিমি দেখা যায়, তারাও এর কাছে ‘শিশু’।

কয়েক বছর আগে ইতালির ওই লেকের ধারে চাষাবাদের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে একটি বড় মেরুদণ্ডের হাড় চোখে পড়ে এক কৃষকের। এরপর ইতালির বিজ্ঞানী জিওভানি বিয়ানুসি তাঁর দলের সদস্যদের নিয়ে ওই জায়গায় হাজির হন। তিমিটি এতই বড় যে তার সম্পূর্ণ কঙ্কাল খুঁড়ে বের করতে প্রত্নতাত্ত্বিকদের প্রায় দুই বছর সময় লেগে গেছে। পাশের লেকের পানির স্তরও কমিয়ে আনতে হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। তা না হলে তিমির কঙ্কাল খুঁড়ে বের করা সম্ভব হতো না। বিশালাকার এ নীল তিমির হাড় পরীক্ষা করে জানা গেছে, এটি প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার বছরের পুরনো। আর এখানেই বিজ্ঞানীদের মনে বিস্ময় জেগেছে। এত বছর আগেও সমুদ্রে এ রকম বিশালাকার প্রাণী ঘুরে বেড়াত! বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, অর্থাৎ এরও অনেক আগে নীল তিমির আবির্ভাব হয়েছিল। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, কোনো প্রাণীর আকার রাতারাতি এতটা বিশাল হওয়া সম্ভব নয়। কিভাবে নীল তিমির জীবাশ্ম এলো এ জায়গায়? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘আইস এজ’ এর কারণ হতে পারে। আজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার বছর পিছিয়ে গেলে এই আইস এজের শুরু। চলেছে আজ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগ পর্যন্ত। এ সময় বেশির ভাগ জলরাশি বরফে পরিণত হয়েছিল। ফলে সমুদ্রের পানির স্তর কমে যায়। সে সময় যে তিমিগুলো মারা যায়, তারই একটির জীবাশ্ম ইতালি থেকে উদ্ধার হলো বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা