kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সাগরপথে মালয়েশিয়া

শিশু-নারীসহ ৮৪ রোহিঙ্গা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার এবং চকরিয়া ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু-নারীসহ ৮৪ রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে দালালের মাধ্যমে পালিয়ে এসে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় রওনা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিমদাদ মিয়ার ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে ৬৭ জনকে আটক করে পেকুয়া থানার পুলিশ। অন্যদিকে গতকাল শনিবার ভোরে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনস উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা ১৭ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেন। এ সময় পাচারকারীচক্রের পাঁচ সদস্যও ধরা পড়ে। আটক রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে।

এদিকে পেকুয়ায় রোহিঙ্গাদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ঘাট থেকে কৌশলে সটকে পড়ে। অবশ্য সন্দেহভাজন কয়েকজন মানবপাচারকারীর নাম সংগ্রহ করে তাদের নামে মামলা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে আটক রোহিঙ্গাদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে পেকুয়া থানার পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শুক্রবার রাতে কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে এসব রোহিঙ্গাকে নিয়ে যাওয়া হয় উজানটিয়া ইউনিয়নের করিমদাদ মিয়ার ঘাটে। পরে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে দিয়ে পাচারকারীরা অদূরে অবস্থান করে। তাদের বহনকারী নৌকাটি কুতুবদিয়া চ্যানেলের দিকে রওনা দেওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পেকুয়া থানার পুলিশ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন সরকার বলেন, পাচারে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। পেকুয়া থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের মুহূর্তে শিশু-নারীসহ একসঙ্গে ৬৭ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

এদিকে গতকাল শনিবার ভোরে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনস উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির সময় কোস্ট গার্ড ১৭ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে। এ সময় ধরা পড়ে পাচারকারীচক্রের পাঁচ সদস্য। কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার ফয়েজুল ইসলাম মণ্ডল জানান, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা ও আটক পাচারকারীদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে সরকার এ দেশে আশ্রয় দিয়েছে। তারা বাংলাদেশে আশ্রিত। তবে কোনো রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে চাইলে বা অন্য যেকোনো উপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে তা আমাদের দেশেরই ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর, বিশেষ করে তারা যাতে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা