kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নতুন করদাতার খোঁজে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা

লক্ষ্য এক কোটি নতুন করদাতা খুঁজে বের করা

সজীব হোম রায়   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন করদাতার খোঁজে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা

দেশের মোট জনবলের মাত্র ৪০ লাখ লোক ইটিআইএনধারী। তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ লাখ কর দেয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আয়করদাতার সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটিতে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এ জন্য নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক পরিকল্পনা। পরিকল্পনার আওতায় কর আদায়যোগ্য মানুষ খুঁজে বের করতে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর জন্য ১০ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে শুধু রাজধানী ঢাকা শহর থেকেই ৪০ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কর আদায় বাড়াতে জেলা-উপজেলায় স্থাপন করা হবে অফিস। বাজেট বক্তৃতায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ভ্যাট খাতকে। ভ্যাটের পরই রয়েছে আয়কর খাত। এনবিআরের এবারের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। আর আয়কর থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ দুই হাজার ২০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে আরো প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই আগামী অর্থবছরের মধ্যে এক কোটি মানুষকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মতে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয়কর আদায় বাড়ানো হবে। এর জন্য ১০ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই জনবলের প্রায় সবাই হবে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী। তাদের প্রধান কাজ হবে আয়কর আদায়যোগ্য মানুষ খুঁজে বের করা। অনেকটা খানা জরিপের মতো তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারভিত্তিক সদস্যদের আয়ের উপাত্ত সংগ্রহ করবে। পরে এই উপাত্তগুলো আয়কর অফিসে জমা দেওয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর আদায়যোগ্যদের আয়করের আওতায় নিয়ে আসবে। নতুন জরিপের মাধ্যমে শুধু ঢাকা শহর থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ নতুন আয়কর দাতা খুঁজে বের করা হবে। এর বাইরে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা থেকে আরো ৬০ লাখ সম্ভাব্য করদাতার খোঁজ সংগ্রহ করা হবে। এর জন্য কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলায় অফিস স্থাপন করা হবে। পরে পুরো দেশে এসব অফিস স্থাপন করা হবে। এসব অফিস থেকেই আয়কর আদায় ও আয়করযোগ্যদের খুঁজে বের করার কাজ পরিচালিত হবে।

গত বুধবার সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে চার কোটি মানুষ আয়কর দেওয়ার উপযুক্ত; কিন্তু কর দিচ্ছে না। তাদের যদি আমরা আস্তে আস্তে কর নেটের আওতায় নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদের রাজস্ব আহরণ অনেক বাড়বে। আগামী এক বছরে এক কোটি মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা