kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বাসের টিকিট তিন ঘণ্টায় শেষ!

ঈদ যাত্রা

পার্থ সারথি দাস   

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বাসের টিকিট তিন ঘণ্টায় শেষ!

ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট পেতে মানুষের দীর্ঘ সারি। গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয় গাবতলী বাস টার্মিনাল ছাড়াও কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট ও কলাবাগানের বিভিন্ন কাউন্টারে। তবে বিক্রি শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে রব তোলা হয় বিভিন্ন কাউন্টার থেকে। টিকিট পায়নি অনেকে। একই সঙ্গে অনেক জায়গায় টিকিটের দাম বেশি রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এবার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ৩০ মে ও ৩ জুনের টিকিটের।

বিভিন্ন কাউন্টারের বিক্রয়কর্মীরা জানান, সরকারি চাকরিজীবীরা ৩০ মে থেকে ঢাকা ছাড়বেন। ৩ জুন বেশির ভাগ পোশাক কারখানা ছুটি হবে। ফলে এই দুই দিনেই যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে। ৫ জুন ঈদুল ফিতর ধরে নিয়ে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই হানিফ, শ্যামলী, নাবিল, সাকুরা, শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস, শ্যামলী, এসপি পরিবহনসহ বিভিন্ন কাউন্টারে ‘টিকিট শেষ’ রব তোলা হয়।

অভিজাত বিভিন্ন পরিবহন কম্পানির কাউন্টার থেকে বেশির ভাগ যাত্রীকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। গাবতলীতে সকাল সাড়ে ১০টায় টিকিট না পেয়ে নিরুপায় আমীরুল ইসলাম বললেন, ‘হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে সকাল ৬টা থেকে দাঁড়িয়েছি। তিন ঘণ্টা পরই বলল, রাজশাহী যাওয়ার ৩০ মের টিকিট শেষ হয়েছে। তাই খালি হাতে ফিরছি। দেখি ট্রেনের টিকিট মেলে কি না।’

অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য কোনো দিনের ভ্রমণের বাস টিকিট নিয়ে ফিরেছেন। অনেকে সাহরির পর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামে ভিজে তবেই পেয়েছে বাড়ি যাওয়ার কাঙ্ক্ষিত টিকিট। তবে অভিজাত শ্রেণির পরিবহনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটও শেষ বলে রব তোলা হয় বিভিন্ন কাউন্টার থেকে। ফলে এখানেও টিকিটপ্রার্থীর বেশির ভাগকে শুকনো মুখে ফিরতে হয়েছে। যেতে হয়েছে অন্য কোনো সাধারণ বাসের কাউন্টারে। তিন ঘণ্টা ঘামে ভিজে একাকার রবিউল ইসলাম বললেন, ‘শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে ৩ জুনের দুটো টিকিট পেয়েছি দিনাজপুর যাওয়ার জন্য। ঘাম ঝরলেও ভালো লাগছে।’

জানা গেছে, গাবতলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাস কাউন্টারে টিকিট আটকে রেখে তা চড়া দামে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া ভিআইপি কোটায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ টিকিট। মন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চাইলে এসব টিকিট দিতে হয়। ঈদের আগে তাই অলিখিত ভিআইপি কোটার ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

জানা গেছে, হানিফ, শ্যামলী, ঈগলসহ বিভিন্ন পরিবহনে এসি বাসের টিকিট দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত ও পরিচিত ক্রেতাদের। যারা এসব শ্রেণির বাসে নিয়মিত যাতায়াত করে, তাদের সঙ্গে কাউন্টারকর্মীদের আগাম যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিট সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভলভো, স্ক্যানিয়া, হুদাইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাসের ভাড়াও সাধারণ বাসের টিকিটের চেয়ে বেশি। গতকাল ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে হানিফ পরিবহনের এসি বাসের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে দুই হাজার টাকায়।

হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, যাওয়ার সময় যাত্রী মিলছে, ফিরতে হবে খালি। তাই সব অভিজাত বাসেই মালিকপক্ষের নির্ধারণ করা ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে।

গাবতলীতে হানিফ পরিবহনের একাধিক কাউন্টারে ৩০ মে ও ৩ জুনের এসি বাসের টিকিট পেতে ভিড় ছিল। কিন্তু এসি টিকিট বিক্রি হচ্ছে না বলে কাউন্টার থেকে জানানো হয় সকালেই। ৩০ মে রাজশাহী যেতে টিকিট কিনতে আসা আলতাফ হোসেন বলেন, এসি টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না কেন বুঝতে পারলাম না।

সরাসরি কাউন্টার ছাড়াও অ্যাপ ও অনলাইনেও টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে আজ শনিবার থেকে এনা পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এ ছাড়া সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঈদের কয়েক দিন আগে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আরামবাগ, ফকিরাপুল, মালিবাগ, নর্দা, শুক্রাবাদ, পল্লবী, গোলাপবাগসহ বিভিন্ন স্থানের কাউন্টার থেকেও আগাম টিকিট বিক্রি হবে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ন্ত্রণাধীন গাবতলী, কল্যাণপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন পরিবহনে গতকাল টিকিট বিক্রি শুরু হয়। মূলত উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের বাস এ টার্মিনাল ও কাউন্টার থেকে চলাচল করে।

গতকাল সকাল ৯টায় গাবতলী বাস টার্মিনাল ও পাশের মাজার রোডে গেলে হানিফ, শ্যামলী, এসআর ট্র্যাভেলস, নাবিলসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিটের জন্য শত শত যাত্রীর ভিড় চোখে পড়ে। তাদের বেশির ভাগই সাহরির পর টিকিট কিনতে আসে। রোদ মাথায় অপেক্ষার পরই অনেকে টিকিট পায়নি।

গাবতলীতে এসআর পরিবহনের কাউন্টারে এসি বাসের কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি। এসআর পরিবহনের ব্যবস্থাপক আমিন নবীর সোজা জবাব, বাস কম, তাই বিক্রি হচ্ছে না। হানিফ পরিবহনে ৩ জুন ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার টিকিট আগের চেয়ে বাড়তি ২০০ টাকা দামে কিনেন রফিকুল ইসলাম রনি। রনি জানান, আগে ৬৫০ টাকা দিতেন, আজ নিয়েছেন ৮৫০ টাকা। এ বিষয়ে হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তারা অবশ্য কথা বলতে নারাজ।

গতকাল বিক্রি হয় ২৯ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত যাত্রার টিকিট। ৩০ মে ও ২, ৩ ও ৪ জুনের বেশির ভাগ টিকিট শেষ হয়ে যায় বিকেলে। ২৯ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত বাসের টিকিট মিলছিল। নাবিল, দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ পরিবহনের টিকিট অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষের মতে, ভিআইপিদের জন্য টিকিট সংরক্ষণ করে রাখা একটি অলিখিত নিয়ম। বিশেষ করে সরকারের বিশেষ প্রভাবশালী বা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জন্য এটি রাখা হয়। তিনি বলেন, যাত্রীদের পরিবহন চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন পরিবহন কম্পানি বিশেষ সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যাত্রী হয়রানি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ দল পাঠাবো টার্মিনালে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা