kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ধানের দর নিয়ে ছিনিমিনি বন্ধে প্রতিবাদ চলছেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধানের দর নিয়ে ছিনিমিনি বন্ধে প্রতিবাদ চলছেই

ধানের ন্যায্য মূল্যসহ কৃষিতে ভর্তুকির দাবিতে জাতীয় কৃষক সমিতি গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাষির সোনালি ধানের দর নিয়ে ছিনিমিনি বন্ধের দাবিতে ক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। এ ইস্যুতে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীসহ সচেতন মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। তারা হাতে হাত রেখে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে ‘কৃষকের কান্না, আর না আর না’, ‘কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকরা কেন অবহেলিত’, ‘কৃষিতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে’—এ রকম স্লোগান দেখা যায়।

দ্রুততম সময়ে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে আগামী বছর থেকে ধান চাষ না করার শপথ নিয়েছে রংপুরের কৃষকরা। ধানের দর বিপর্যয়ের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে নগরীর সাতমাথায় বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারের সামনে রাস্তায় ধান ফেলে বিক্ষোভ শেষে এ শপথ নেয় তারা। কৃষক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ডাকা এই কর্মসূচিতে কৃষকরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খোলার দাবিও জানায়।

এদিকে একই সময়ে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতারা কৃষক বাঁচানোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। এ সময় খোলাবাজারে ধানের মূল্য বিপর্যয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে সেখানে ধানে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

ধানের ন্যায্য দামের দাবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে ক্যাম্পাসের সামনে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গীপাড়া সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে।

একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ধান ছিটিয়ে কৃষকদের বঞ্চনার প্রতিবাদ করে।

‘কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ, গড়ে উঠবে সোনার বাংলাদেশ’—এ স্লোগানে কৃষিপণ্যে ন্যায্য মূল্যের দাবিতে গতকাল দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধন করেছে।

একই দাবিতে গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ।

শিক্ষাজীবন বাঁচাতে কৃষক বাবার ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে গতকাল গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ছাত্রফ্রন্ট।

অভিন্ন দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে মানববন্ধন করেছে।

এদিকে নড়াইলে কৃষি শ্রমিকের অভাবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছে না অনেকে। মৌসুম শেষ হয়ে এলেও মাঠে এখনো পাকা ধান পড়ে আছে। তার ওপর ধানের নায্য দাম নিয়েও রয়েছে আশঙ্কা। প্রতি মণ ধান উৎপাদন খরচ হাজার টাকা হলেও বাজারদর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকা ধার্য করলেও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে না। এমনকি বেশির ভাগ প্রান্তিক কৃষকের তালিকাতেই নাম নেই।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের মুখে নেই হাসি। ধান উৎপাদনের খরচের চেয়ে বাজারদর কম হওয়ায় হতাশায় ভুগছে চাষিরা।

এদিকে সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সুনামগঞ্জ খাদ্যগুদামে এসে ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন খুলনা ও রংপুর অফিস, নড়াইল, সুনামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, শেকৃবি এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা