kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ফাস্ট ট্র্যাকে

সাত প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৩৬ হাজার ২২০ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ফাস্ট ট্র্যাকে

আওয়ামী লীগ সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মা সেতু। আগামী ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ২০২০-২১ অর্থবছরের আগেই শেষ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল সেতুর প্রায় পুরোটা দৃশ্যমান হয়ে যাবে। এ ধরনের আরো ৯টি প্রকল্প রয়েছে যেগুলো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচিভুক্ত এসব প্রকল্প তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে আসছে বাজেটে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো দিতে যাওয়া আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসব প্রকল্পের সাতটিতে প্রায় ৩৬ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে অবকাঠামোর পৃথক বইয়ে ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত বলা থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, মোট ১০টি প্রকল্প ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরেও ফার্স্ট ট্র্যাকের এসব প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে এগুলো পাচ্ছে বাড়তি তাৎপর্য।

আসন্ন বাজেটে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ী এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রো রেল প্রকল্প), দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছাকাছি ঘুনধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন দ্বৈতগেজ রেলপথ, পায়রা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে থাকছে বড় বরাদ্দ। সব মিলিয়ে ৩৬ হাজার ২১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মেট্রো রেল প্রকল্প। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : বাংলাদেশের ইতিহাসে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। তাই সর্বাধিক গুরুত্বও পাচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি সাত লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১১ হাজার ৩১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রাশিয়ার অর্থায়নে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। জানুয়ারি পর্যন্ত এর আর্থিক অগ্রগতি ১৩.৯৫ শতাংশ।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ : ২০১৬ সালে পাস হওয়া এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ হবে। আসন্ন বাজেটে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে তিন হাজার ৯৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১৬.৮০ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি ২৩.৪৭ শতাংশ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প : বর্তমান সরকারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প। ডিসেম্বরের আগে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। তাই জোরেশোরে পদ্মা সেতু যতটা সম্ভব দৃশ্যমান করার কাজ চলছে। আগামী বাজেটে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এতে বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের এ প্রকল্পে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। জানুয়ারি পর্যন্ত পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ।

মেট্রো রেল প্রকল্প : রাজধানীবাসীকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে সরকার এ প্রকল্প নিয়েছে। জোরেশোরে এর কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রেলপথ হবে। প্রতি ঘণ্টায় ২২ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারবে। আসন্ন বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সাত হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার ৪৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ২৬.২০ শতাংশ।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র : এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তিন হাজার ৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।

দোহাজারী-কক্সবাজার, রামু-ঘুনধুম রেলপথ : আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২০ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি ১৮.৪৬ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর : ২০১৫ সালে তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত এ প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে  ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫৫২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪০.৫৫ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি ৩৮.১৮ শতাংশ।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা