kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট-অবরোধ চলছেই

শনিবারের মধ্যে সমাধান দাবি, না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শনিবারের মধ্যে সমাধান দাবি, না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি

আগামী শনিবারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি তারা আবার বিজেএমসি বিলুপ্তির দাবি তুলেছে।

বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকরা ধর্মঘট-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বুধবারও বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) পরিচালনাধীন খুলনা জোনের ৯টি পাটকলে কোনো কাজ হয়নি। পাশাপাশি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শ্রমিকরা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ নন-সিবিএ ঐক্য পরিষদ ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে। গতকালও বিকেল ৪টায় এক এক করে শ্রমিকরা খুলনা-যশোর রোডে জড়ো হতে থাকে। তারা খালিশপুরের নতুন রাস্তার মোড়, নতুন রাস্তা-সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের কবির বটতলা ও দৌলতপুরে জমায়েত হয়। এক অংশ খুলনা-যশোর রেললাইনের নতুন রাস্তার কাছে অবস্থান নেয়। জমায়েতস্থলে শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন। পাশাপাশি রাস্তার ওপরেই শ্রমিকরা নামাজ আদায় ও ইফতার করে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ নন-সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন, বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন, ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ সভাপতি সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

শ্রমিক নেতারা বলেন, দাবি আদায়ের জন্য তাঁরা বেশ কয়েক দিন ধরে কর্মবিরতি, ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু বিজেএমসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সরকারও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে তাঁরা বলেন, আগামী ১৮ মের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না করলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিয়ে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে।

পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের  রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, সব মিলিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ী করার দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে হঠাৎ গত ৫ মে দুপুর থেকে একে একে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। আর ৭ মে থেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা।

খুলনা অঞ্চলের খালিশপুরের প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, খালিশপুর, দৌলতপুর ও স্টার; আটরা শিল্প এলাকার আলিম ও ইস্টার্ন এবং যশোরের নওয়াপাড়া এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলের শ্রমিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।

এর আগে ২ থেকে ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে একযোগে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং চার ঘণ্টা করে রাজপথ ও  রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে শ্রমিকরা। এরপর শ্রমিকরা ১৫ এপ্রিল ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের কর্মসূচি শুরু করে। তবে বিজেএমসি চেয়ারম্যান ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের সমঝোতার ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ পর্যন্ত শ্রমিকদের কোনো দাবিই পূরণ করা হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা