kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কলসিন্দুরের মেয়েদের মেডেল-সনদে আগুন

এলাকাবাসী হতভম্ব-ক্ষুব্ধ দুষ্কৃতকারী চিহ্নিত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলাকাবাসী হতভম্ব-ক্ষুব্ধ দুষ্কৃতকারী চিহ্নিত হয়নি

ময়মনসিংহ ও ধোবাউড়ার নামকে ছাপিয়ে দেশের মানুষের কাছে অধিক পরিচিত কলসিন্দুর। দেশে নারী ফুটবলের বড় তারকা সানজিদা, মারিয়া মান্দাদের অসামান্য কৃতিত্বে এই অর্জন। এই অদম্য ফুটবলারদের অনন্য কৃতিত্বের কারণেই প্রত্যন্ত কলসিন্দুরে গেছে বিদ্যুৎ, সড়ক হয়েছে পাকা। কৃতী এই নারী ফুটবলারদের প্রাণের স্কুল কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুলটির অফিস কক্ষে ছিল প্রশাসনিক সব কাগজপত্র। সঙ্গে আলমারিতে সাজানো ছিল বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অর্জন করা নারী ফুটবলারদের খেলার

সনদপত্র, মেডেল। গত মঙ্গলবার ভোরে ফুটবল তারকাদের গর্বের স্কুলটির অফিস কক্ষ দুষ্কৃতকারীরা আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দেয়। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আগুন দেওয়ার কারণ এবং দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে পুলিশ আশা করছে, দ্রুত এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করা যাবে। গতকাল জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে পুলিশ তদন্তও শুরু করেছে।

কলসিন্দুরে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকার মানুষ হতভম্ব, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। গতকাল দিনভর স্কুলের আঙিনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর আনাগোনা ছিল। সবার মুখে ছিল আগুনের ঘটনা এবং দোষী কারা এ নিয়ে আলোচনা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনায় তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, স্কুলটি সরকারীকরণে কেউ বাধা দিচ্ছে কি না এবং সেই বাধাদানকারীদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটল কি না। দ্বিতীয়ত, সোহাগ মিয়া নামে একজন শিক্ষককে কয়েক মাস আগে স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে এক জটিলতার কারণে বরখাস্ত করা হয়। কাগজপত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সেই সোহাগ মিয়ার নামও আলোচনায় উঠে আসছে। তৃতীয়ত, এই স্কুলের নারী ফুটবলারদের অগ্রযাত্রাকে কেউ ব্যাহত করতে চায় কি না।

তবে এলাকাবাসী জানায়, স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা অসন্তোষের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। যিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি জানতেন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র কোথায় আছে। খুঁজে খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় কাগজগুলোই পোড়ানো হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগুনে পোড়ানো হয়েছে মূলত দাপ্তরিক কাগজপত্র। বিশেষ করে কিছু রেজুলেশন, হাজিরা খাতা, নারী ফুটবলারদের সনদপত্র ও মেডেল। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব কাগজ পোড়ানো হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নারী ফুটবলারদের স্থানীয় কোচ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘কলসিন্দুরের সুনাম দেশে-বিদেশে। দ্রুত এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’

স্কুলের পাশের চা দোকানদার আবুল হাশেম বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অবশ্যই শিক্ষিত লোক। এখন সেই লোকগুলোকে বের করতে হবে।

কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মালা রানী সরকার বলেন, ‘আমরা এমন ঘটনায় বিস্মিত। এ স্কুলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। আশা করছি, দ্রুত দুষ্কৃতকারীরা শনাক্ত হবে, ধরা পড়বে।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ধোবাউড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।  

এদিকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘কাগজপত্র পোড়ানোর সঙ্গে কারো কোনো স্বার্থ আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। আশা করছি, অপরাধীরা দ্রুত চিহ্নিত হবে।’ 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা