kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

পুঁজিবাজার

সোমবার প্রতীকী গণ-অনশনে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোমবার প্রতীকী গণ-অনশনে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা

অব্যাহত পতনেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ‘বিক্ষুব্ধ’ বিনিয়োগকারীরা প্রতীকী গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়েছে। পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা টানা বিক্ষোভ করলেও কোনো আশ্বাস না পেয়ে আগামী সোমবার গণ-অনশনে যাচ্ছে। মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই গণ-অনশন করবে তারা।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কারসাজির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। এই চক্রকে চিহ্নিত কিংবা আইনের আওতায় আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। ছোট বিনিয়োগকারীরা আতঙ্ক ও অনাস্থা থেকে শেয়ার বিক্রি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয়।

তারা বলছে, কারসাজিচক্র নিজেরা কোনো কোনো কম্পানির শেয়ারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে দাম চড়িয়েছে। বেশি দাম ওঠায় শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়ে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। বাজার অস্থিরতায় কম দামে শেয়ার কেনার পাঁয়তারা করছে। স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সার্ভেইল্যান্স থাকলেও তা ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পুঁজিবাজারে বারবার পতনে কোনো একটা গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দ্রুতগতিতে পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরলেও ফেব্রুয়ারিতে এসে হতাশ করেছে। জানুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৮০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, লেনদেনও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে মুদ্রানীতি, ব্যাংকে তারল্য সংকট, সঞ্চয়পত্র ও আমানতে সুদের হার বাড়লে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যায়।

পুঁজিবাজার সূত্র বলছে, আগামী বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউস ও স্টক ব্রোকাররা বিশেষ সুবিধা আদায় করতে পুঁজিবাজারকে ব্যবহার করছে। মার্চেন্ট ব্যাংক বলছে, পুঁজিবাজার নিম্নমুখী হলেও অর্থবাজারে তারল্য সংকট ও এক্সপোজার ইস্যুতে তারা বিনিয়োগ করতে পারছে না। ব্রোকারেজ হাউসও বলছে, বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় ফান্ড আটকে গেছে। লোকসানে পড়ায় তারাও বিনিয়োগ করতে পারছে না।

আর বিনিয়োগকারীরা বলছে, পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশও (আইসিবি) যতটা ভূমিকা রাখার কথা সেটা করতে পারছে না। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আতঙ্ক ও অনাস্থায় শেয়ার ছেড়ে দিলেও আইসিবি কিছু করতে পারছে না। এদিকে আইসিবির হাতে পর্যাপ্ত ফান্ড নেই উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিএসইর এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারের কাছে পাওয়া টাকা বিনিয়োগ করে লোকসানে পড়তে হয়েছে। বাজারের অস্থিরতায় বিক্রির চাপ বেশি থাকায় শেয়ার কেনা দামের নিচে নেমেছে। এখন চাইলেও লোকসান দিয়ে ফান্ড বের করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘বাজারের এই চিত্র স্বাভাবিক নয়। উত্থান-পতন থাকবে, এটাই বাজারের চিত্র। কিন্তু পুঁজিবাজারের আকার যেভাবে বেড়েছে, তাতে এত কম লেনদেন অপ্রত্যাশিত। কেন এমনটা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা খতিয়ে দেখতে পারে।’ তবে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই এখন নিষ্ক্রিয়, যার জন্য লেনদেন কমতে পারে।’

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার এক বছরের বেশি পেছনে ফিরে গেছে। এই সময়ে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী ঢুকেছে, ফান্ড এসেছে, কিন্তু পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক এই চিত্র কেন? দায় কি বিনিয়োগকারীর?’

তিনি বলেন, দুর্বল কম্পানি কিন্তু বাড়তি প্রিমিয়ার দিয়ে বাজারে আনা হয়েছে। পুঁজিবাজারে কৃত্রিম খেলা চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে শেয়ার দাম বাড়ায়, আবার অস্থিরতা ছড়িয়ে বাজারকে ফেলে দিয়ে শেয়ার দাম কমলে শেয়ার কিনে লাভবান হয়। এই কৃত্রিম খেলা বন্ধ করতে হবে।

প্রতীকী গণ-অনশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেও সমাধান তো দূরের কথা বাজার নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। পুঁজিবাজারে যদি কোনো কিছুই না হয়, আমাদের পুঁজি গেল কই? এই জন্য দরপতনের প্রতিবাদে প্রতীকী গণ-অনশন পালন করব।’

গতকালের পুঁজিবাজার : সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শেয়ার কেনার চাপ বাড়ায় সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ২০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে সূচক ও লেনদেন উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। সকাল পৌনে ১১টার পর শেয়ার বিক্রি বাড়লে সূচক কমে, কিন্তু সাড়ে ১১টা থেকে শেয়ার কেনার চাপে সূচক বাড়ে। এতে দিনের সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৬৬ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৬৩ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৪ কমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০২টির, দাম কমেছে ১০২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০ কম্পানির শেয়ার দাম।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি এক লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছে ৬১ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হওয়া ২৩৮ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৫টির, দাম কমছে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০ কম্পানির শেয়ার দাম।

মন্তব্য