kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

সবিশেষ

ম্যালেরিয়া প্রতিষেধকের প্রথম ব্যবহার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ম্যালেরিয়া প্রতিষেধকের প্রথম ব্যবহার

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ব্যবহার শুরু করতে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ মালাউয়ি। মশাবাহিত এ রোগ প্রতিরোধে একমাত্র অনুমোদিত ভ্যাকসিন তারা প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মালাউয়ির এক-তৃতীয়াংশ শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে, যারা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বিশ্বে প্রতিবছর চার লাখ ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশির ভাগই আফ্রিকার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জীববিজ্ঞানের প্রধান অ্যালিস্টার ক্রেইগ বলেন, ‘এটি একটি অসম্পূর্ণ টিকা, তার পরও কয়েক লাখ মানুষের জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা আছে।’ অবশ্য ক্রেইগের সঙ্গে এই পরীক্ষা কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ধারণা, ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার প্রধান মৌসুমে এই প্রতিষেধক ব্যবহারে কয়েক লাখ শিশু অসুস্থ হওয়া কিংবা মারা যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

‘মসকুইরিক্স’ নামের টিকাটি উদ্ভাবন করেছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বা জিএসকে। ২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি এর অনুমোদন দিয়েছে। একটি পরীক্ষায় শিশুদের ওপর চারবার প্রয়োগে এর ৩০ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আবার এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার  প্রবণতাও আছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যথা, জ্বর ও খিঁচুনি হওয়ার শঙ্কা আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিনটি দেশে প্রতিবছর তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুর ওপর এ টিকা প্রয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ম্যালেরিয়া প্রকল্পের পরিচালক পেদ্রো অ্যালোনসো। টিকাটি অবমুক্ত করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের তুলনায় এই রোগ বহনকারী পরজীবীটির প্রতিষেধকের আবিষ্কার অনেক কঠিন ছিল।

তবে টিকাটিতে কিছুটা ত্রুটি থাকলেও আরো ভালো কিছুর জন্য আপাতত অপেক্ষার সময় নেই বলে মনে করেন পেদ্রো। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না পরবর্তী প্রতিষেধকটি কবে নাগাদ উদ্ভাবন করা সম্ভব। হয়তো তার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে।’

জিএসকে ও তার সহযোগীরা ৩০ বছরের প্রচেষ্টায় প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ করে টিকাটি উদ্ভাবন করেছে। চলমান প্রকল্পে তারা এক কোটি টিকা বিনা মূল্যে সরবরাহ করছে। পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনার পরিকল্পনা চলছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য