kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

রক্তাক্ত শ্রীলঙ্কা

অপরাধীদের ধরতে সেনা মোতায়েন গ্রেপ্তার ৭০

ফের হামলার শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর ‘স্লিপার সেল’ সতর্কতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অপরাধীদের ধরতে সেনা মোতায়েন গ্রেপ্তার ৭০

ছবি: ইন্টারনেট

শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। হামলার ঘটনায় জারি করা জরুরি অবস্থা ও কারফিউ কাজে লাগিয়ে চলছে এই গ্রেপ্তার অভিযান। গতকাল আরো পাঁচটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত অভিযানে ৭০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষকে ছয়টি বিদেশি তদন্ত দল তদন্তকাজে সহযোগিতা করছে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে আবারও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা ব্যক্ত করে সন্ত্রাসীদের ‘স্লিপার সেল’ সম্পর্কে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামলার আগে তারা সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রেখেছিলেন। তবে তাদের গ্রেপ্তার

করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ ছিল না। তাঁর প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনেও স্বীকার করেছেন, হামলা ঠেকাতে সরকারের বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। এরই মধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস, যাদের সঙ্গে স্থানীয় অপরিচিত জঙ্গিগোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহিদ জামাতের (এনটিজে) যোগসূত্র থাকতে পারে বলে শ্রীলঙ্কার পুলিশও বলে আসছে।

গ্রেপ্তার অভিযানে সেনা মোতায়েন : বোমা হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযানে সহায়তা করতে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ গতকাল কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জরুরি অবস্থায় নতুন করে পাওয়া ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানে গতকাল তারা আরো ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাশেকারা বলেন, সন্ত্রাস তদন্ত বিভাগ (টিআইডি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) আলাদাভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত বোমা হামলার তদন্তে ছয়টি বিদেশি তদন্ত দল অংশগ্রহণ করেছে। তারা হলো যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, নিউজিল্যান্ড পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশ, ডেনিশ পুলিশ, ডাচ পুলিশ ও ইন্টারপোল।

সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার সুমিথ আতাপাত্তু বলেন, এক হাজার ৩০০ জনের সেনা সদস্যের স্থলে এখন ছয় হাজার ৩০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আরো দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে। তিনি জানান, সব ধরনের ড্রোন ওড়ানো এবং বাণিজ্যিকভাবে দেওয়া ড্রোনের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা : দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে আবারও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। গতকাল সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসীদের ‘স্লিপার সেল’ (গোপন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনী) লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। তবে তাদের স্লিপারদের ধরতেও অভিযান চালাতে হবে, যারা দ্বিতীয় ও দ্বিতীয় দফায় হামলায় চালাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপদ ভয়ংকরভাবেই এসেছে। তবে আমাদের কিছু স্লিপারকে ধরতে হবে, যা আগামী দিনগুলোতে আমাদের করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সন্দেহভাজন কয়েকজন হামলাকারীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তবে সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এক হামলাকারীকে আগে ধরেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল : পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, রবিবারের ওই ঘটনায় সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে আত্মঘাতী এক হামলাকারীকে এর আগে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই হোটেলটিতে যে দুই মুসলিম সহোদর ভাই হামলা চালিয়েছিল, তাদের একজন ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিম ও আরেকজন ইমসাত আহমেদ ইব্রাহিম। তারা রাজধানী কলম্বোর ধনকুবের ও মসলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিমের ছেলে, যার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সসুম্পর্ক ছিল। তার এ দুই ছেলের মধ্যে  ইলহামকে একবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সুদর্শন গুণাবর্ধনের নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, এরই মধ্যে দুই ছেলেকে সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার অভিযোগে তাদের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা : গতকাল ইসরায়েলের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরো থেকে শ্রীলঙ্কার ব্যাপারে নাগরিকদের প্রতি ভ্রমণ সতর্কতা করেছে। এ ছাড়া গতকাল কলম্বোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থকে শ্রীলঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের সাবধানে চলাফেলার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ক্যাথলিক গির্জা বন্ধ ঘোষণা : হামলার প্রেক্ষাপটে রাজধানী কলম্বোর সব গির্জা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শ্রীলঙ্কার আর্চবিশপের গণমাধ্যম পরিচালক এফআর এডমন্ড তিলকারত্নে জানান, আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত গির্জাগুলো বন্ধ থাকবে। কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিতের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিরক্ষাসচিবের পদত্যাগ : শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইত্রি সিরিসেনার নির্দেশে গতকাল পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষাসচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো। তবে তিনি কোনো ধরনের ব্যর্থতার কথা অস্বীকার করে বলেন, তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছিল না। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ঠিকই তৎপর হয়েছিল। তবে তিনি প্রতিরক্ষাসচিব হিসেব হামলার ঘটনার দায় নিচ্ছেন বলে জানান। সূত্র : সিএনএন, এএফপি, এনডিটিভি।

মন্তব্য