kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সবিশেষ

মঙ্গলের কম্পন শনাক্ত করল নাসার ইনসাইট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মঙ্গলের কম্পন শনাক্ত করল নাসার ইনসাইট

মঙ্গলের অন্দর থেকে এই প্রথম শোনা গেল ‘চাপাকান্না’, ‘গোঙানি’র আওয়াজ! থরথর করে কেঁপে উঠল লাল গ্রহ। শুধুই এক দিনের ঘটনা নয়, দফায় দফায় সেই গোঙানির আওয়াজ শোনা গেল চার দিন। যা অনুভব করার জন্য প্রায় ৫০ বছর ধরে হাপিত্যেশ অপেক্ষায় বসেছিলেন বিজ্ঞানীরা। যার নাম ‘মার্শকোয়েক’।

এ কম্পনের অর্থ এখনো পুরোপুরি মরে যায়নি লাল গ্রহ। এখনো ‘বিপ্লব স্পন্দিত’ মঙ্গলের বুকে! বদলাচ্ছে তার গঠন। বদলাচ্ছে তার অন্দর। আর সেই বদলানোর জাদুকাঠিটা এখনো রয়েছে মঙ্গলের বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনো ‘ম্যাজিশিয়ানের’ হাতে!

ভূমিকম্পে যেমন থরথর করে কেঁপে ওঠে পৃথিবী, দুলে ওঠে মাটি, ফুলে-ফেঁপে ওঠে সাগর, মহাসাগর—এমনটাই ঘটে মঙ্গলেও। মঙ্গলের অন্দরের সেই কান্না শুনছে নাসার পাঠানো মহাকাশযান ‘ইনসাইট’-এর ল্যান্ডারে থাকা ‘সিসমিক এক্সপেরিমেন্ট ফর ইন্টেরিয়র স্ট্রাকচার’ (সিস) যন্ত্রটি। যা আদতে একটি ফরাসি যন্ত্র। শুধু সেই চাপাকান্না শুনেই চুপ করে বসে থাকেনি ‘সিস’, রেকর্ড করে তা পাঠিয়েও দিয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশনে। তার পর সেই শব্দকে আমাদের শ্রবণযোগ্য করে তোলা হয়েছে।

নাসার তরফে জানানো হয়েছে, মোটামুটি ভালোভাবে তা শোনা গেছে গত ৬ এপ্রিল। তবে তার আগে, পরে আরো তিন দিন ওই শব্দ শুনেছে সিস। যদিও তা খুবই নিচু স্বরে।

মঙ্গলে নাসার ল্যান্ডার ইনসাইট পা ছোঁয়ানোর ১২৮তম দিনে ঘটেছে এ ঘটনা। যা পৃথিবীর সাড়ে ১২৫ দিনের সমান। কারণ, পৃথিবীর দিন-রাতের আয়ু যতটা, মঙ্গলের দিন-রাতের আয়ুও প্রায় ততটাই। পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ঘুরতে যে সময় নেয় (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট), তার চেয়ে সামান্য কিছুটা বেশি সময় নেয় লাল গ্রহ। ঘণ্টার হিসাবে তাই মঙ্গলের একটি দিন আমাদের চেয়ে সামান্য একটু বড়। তার দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা ৩৯ মিনিটের মধ্যে। এটাকেই বলে ‘সল’।

নাসার মিশন অপারেশনসের সায়েন্স অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘এটা একটা অসাধারণ সাফল্য। অভূতপূর্ব। এই প্রথম মঙ্গলের কম্পন ধরা পড়ল আমাদের কোনো যন্ত্রে। লাল গ্রহের অন্দরে এখনো কী কী ঘটে চলেছে, তা জানাতে এই ঘটনা খুবই সাহায্য করবে। কম্পন যেহেতু তরঙ্গই, তাই তা আরো ছড়াবে। আর তা যত ছড়াবে, ততই আমাদের পক্ষে মঙ্গল। কারণ এই ধরনের কম্পনের ঘটনা আরো বাড়বে।’ সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা