kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

বাগে আসছে বান্দরবানের ম্যালেরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাগে আসছে বান্দরবানের ম্যালেরিয়া

বান্দরবান আর ম্যালেরিয়া একসময় ছিল ‘সমার্থক শব্দ’। পাহাড়ি জেলা বান্দরবান নাম শুনলেই আগে মনে উঁকি দিত ম্যালেরিয়ার কথা। এখন দিন বদলেছে। সমতলের সচেতন মানুষ এখন ম্যালেরিয়া ভুলে বান্দরবানের পর্যটনকে কাছে টেনে নিয়েছে। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের এই দিনে সুখবর হলো, দেশের ১৩টি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত জেলার শীর্ষে এখনো বান্দরবান থাকলেও ২০১৮ সালে এ রোগে মৃত্যুসংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সরকারি-বেসরকারি টানা উদ্যোগ, জনসচেতনতা ও কীটনাশক মিশ্রিত মশারি ব্যবহারের ফলে এ ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত উপজেলা থানচি ও আলীকদমে বাড়তি উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হওয়ায় এই দুটি উপজেলার ফলও ইতিবাচক।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৫ সালের আগে এ জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর মারা যেত ৫০০ জনেরও বেশি। ফলে খুব একটা বাধ্য না হলে এ অঞ্চলে চাকরি করতে আসতে চাইত না কেউই। আগে ম্যানুয়েলি ডাটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ২০১২ সালের আগের বছরওয়ারি সরকারি তথ্যগুলো পাওয়া যায়নি।

২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজিটাল ডাটাবেইস অনুযায়ী ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বান্দরবানে সন্দেহভাজন আট লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ জনের রক্ত পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বান্দরবানে ৯৭ হাজার ৩০৩ জন রোগীর দেহে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায়। এ সময়ে মৃত্যুসংখ্যা ছিল ২৬। ডাটাবেইস বলছে, এই ২৬ জনের মধ্যে ২০১৪ সালে এক বছরেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১২ জনের।

টানা সাফল্যের মধ্যেও ২০১৪ সালে হঠাৎ করে এমন বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু মারমা জানান, ২০১২ ও ২০১৩ সালে বান্দরবানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার অনেক কমে যাওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা যথাক্রমে দুই ও তিনজনে নেমে আসায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে গাছাড়া ভাব চলে আসে। এ ছাড়া বাজারে চাহিদা নেই বিবেচনায় কম্পানিগুলো অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ বাজারজাত বন্ধ করে দেয়। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ম্যালেরিয়াপ্রবণ মৌসুমে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, বাজারে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছিল না।

সিভিল সার্জন জানান, ২০১৪ সালে মৌসুমের আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়া এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে ম্যালেরিয়ার প্রজনন হার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে। কিন্তু বাজারে ওষুধ না পাওয়ায় মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে।

ডা. অং সুই প্রু বলেন, তবে ওই শিক্ষা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ২০১৫ সালে মৃত্যুর হার নেমে আসে তিনজনে। ২০১৬ সালে পাঁচজন এবং ২০১৭ সালে একজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। আশাজাগানিয়া খবর হলো, ২০১৮ সালে এই জেলায় ম্যালেরিয়ায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি সহযোগিতায়  বর্তমানে শতভাগ মানুষের মধ্যে আমরা মেডিকেটেড মশারি বিতরণ নিশ্চিত করতে পেরেছি। ফলে বাসিন্দারাও মশারি ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। আশা করছি, ২০১৯ সাল এবং এর পর থেকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও কমবে।’

বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানবিদ আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের আউটলেটগুলোতে সন্দেহভাজন ২৮ হাজার ৩২০ জনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এই তিন মাসে মাত্র ৩২১ জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু মিলেছে।

 

মন্তব্য