kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

চট্টগ্রামে চালক ‘হত্যাকাণ্ড’

সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তি কমাতে সারা দেশে ধর্মঘটের ছক

পার্থ সারথি দাস   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তি কমাতে সারা দেশে ধর্মঘটের ছক

সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনায় অপরাধের শাস্তি-জরিমানা কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মঘটের পরিকল্পনা নিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। চট্টগ্রামে এক বাসচালককে ‘হত্যার’ ঘটনাকে পুঁজি করে তাঁরা এ আন্দোলনকে বেগবান করতে চাইছেন। এ জন্য বাস, অটোরিকশা, পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের এ বিষয়ে সংগঠিত থাকতে বলা হয়েছে। এ কর্মকৌশলের মূল পরিকল্পনায় আছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এরই মধ্যে ২৩৩টি শ্রমিক ইউনিয়নকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটি গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ ৮৮টি রুটে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করার কথা। ধর্মঘট শুরুর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্মঘট আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়নি। এদিকে আগামী ২৯ এপ্রিল সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে। এর নেপথ্যে ওই ফেডারেশনের নির্দেশনা রয়েছে। নতুন সড়ক আইনের বিভিন্ন ধারা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। রাজধানী ও সিলেটে ধর্মঘট পালন করে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রী ও সাধারণ চালকদের মুখে কালিও লেপন করেছিল। তবে তীব্র সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ওই কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ায়। সড়ক আইনের শাস্তি কমানোসহ সাতটি দাবিনামা গত মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করেছে ফেডারেশন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস যাচ্ছিল। পটিয়ার শান্তিরহাট অতিক্রমকালে সাদা পোশাকে থাকা এক দল লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। ইয়াবা আছে বলে তারা চালককে দুই দফা মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে চালক জালালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এরই মধ্যে পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মঘট আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমাদের আঞ্চলিক কমিটি সন্ধ্যা থেকে ধর্মঘট ডাকবে।’ 

জানা গেছে, সড়ক আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন না হলে ধর্মঘট, এক মিনিট হর্ন বাজানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করবে।

শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে সড়ক দুর্ঘটনার অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ফাঁসির বিধান এবং জরিমানা পাঁচ লাখ রাখার বিধান বাতিল করা, সড়ক দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্য করা, অতিরিক্ত ওজনের মালামাল বহনের জন্য শাস্তি তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকার জরিমানা পরিবহন শ্রমিকের কাছ থেকে আদায় না করা, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শুধু সার্জেন্টদের ধারণার ওপর মামলা না করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে অতিগতি শনাক্ত হলে মামলা করা, সড়ক-মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার উচ্ছেদ ও ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার করা, ঢাকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোর বেশির ভাগ গাড়ি রাখার জায়গা উদ্ধার করা এবং সরকারি গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করা।

ঢাকা থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ : গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার টার্মিনাল ও কাউন্টার থেকে ফিরে আসে হাজার হাজার যাত্রী। সায়েদাবাদ, মালিবাগ, নদ্দা, শ্যামলী, কলেজগেট, কল্যাণপুর, টেকনিক্যালসহ বিভিন্ন স্থানে কাউন্টারে এসব রুটের টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে।

কর্মসূচির বিরোধিতা করছেন প্রতিপক্ষ পরিবহন নেতারা : এ ধর্মঘটের বিরোধিতা করে পরিবহন নেতা মো. হানিফ খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সহকর্মী হত্যার প্রতিবাদে যাত্রীদের জিম্মি করে এ কর্মসূচি কখনোই মানা যায় না। অন্য কোনো কর্মসূচির মধ্য দিয়েও তো প্রতিবাদ করা যেত। এতে মূলত যাত্রীদের জিম্মি করার একটা সুযোগ পেয়েছেন ধর্মঘট পালনে উৎসাহী পরিবহন নেতারা।’

মন্তব্য