kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

ইজি বাইকের দাপটে বিশৃঙ্খল খুলনা

কৌশিক দে, খুলনা   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইজি বাইকের দাপটে বিশৃঙ্খল খুলনা

খুলনায় ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের দাপটে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। ছবিটি নগরীর শান্তিধাম এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইজি বাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে খুলনা মহানগরীতে ফের যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বছরের শুরুতে ইজি বাইক নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলে নগরীর যাটজট কিছুটা কমে আসে। সে সময় বাইরের ইজি বাইক মহানগরীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে এ নিয়ম আর মানা হচ্ছে না। তা ছাড়া মহানগরীতে বসবাস করে শুধু এমন চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গত দুই মাসে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। আর যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে সাধারণ পথচারীদের।

নগর সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে নগরীর ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ইজি বাইক চালকদের কাছে আবেদন ফরম বিতরণ করা হয়। ফরমের মূল্য ছিল ৫০০ টাকা। ইজি বাইকের লাইসেন্সের জন্য মোট আট হাজার ২২৮টি আবেদন জমা পড়ে। আর এতে সিটি করপোরেশনের আয় হয় ৪১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। একই সঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহায়তায় ১৫ জানুয়ারি থেকে বাইরের ইজি বাইক নগরীতে প্রবেশ বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এ জন্য নগরীর আটটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসায় কেসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ। তবে ১৫-২০ দিন পর থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন দিনের বেলা কেবল গল্লামারী সেতু দিয়ে বাইরের ইজি বাইক নগরীতে ঢুকতে পারছে না। বাকি সাতটি প্রবেশপথ-ময়ূরী সেতু, রূপসা সেতু, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা মোড়, তেলিগাতী ল্যাবরেটরি মোড়, যোগীপোল মোড় ও বাদামতলা বিআরটিএ অফিস মোড় দিয়ে ইজি বাইক নগরীতে ঢুকছে। ফলে নগরীর সড়কগুলোতে এখন ইজি বাইকের ছড়াছড়ি।

ইজি বাইক চালকদের হিসাব অনুযায়ী, নগরীতে এখন ৩০ হাজারেরও বেশি ইজি বাইক চলাচল করে। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অধিকাংশ চালকদের কোনো ধারণা নেই। ফলে চালকরা সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানামা করায়। একই সঙ্গে একাধিক লেন দিয়ে ইজি বাইক চলাচল করায় সব সময় যানজট লেগেই থাকছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। অতিরিক্ত ইজি বাইকের কারণে নগরীর প্রবেশপথ গল্লামারী সেতু থেকে ময়লাপোতার মোড় পর্যন্ত দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে। এ ছাড়া সিমেট্রি রোড, কেডি ঘোষ রোড, পাওয়ার হাউস মোড়, আহসান আহমেদ রোড, শামসুর রহমান রোড, ফেরিঘাট মোড়, খুলনা থানার মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক মোড়, শান্তিধাম মোড়, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, মৌলভীপাড়া মোড়ে যানজট এখন নিত্যদিনের।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে ইজি বাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছিল দ্রুত তা কার্যকর করা প্রয়োজন। এ ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার পর সব ইজি বাইকে একই রং করা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও জরুরি।

কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, এখন পর্যন্ত আবেদন ফরম যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করি রোজার ঈদের পরপরই লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ কার্যক্রম শেষ হলে নগরীতে আর লাইসেন্সবিহীন কোনো ইজি বাইক চলতে দেওয়া হবে না।

মন্তব্য