kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

সীমার বাইরের সিম বন্ধে সময় আবারও বাড়ছে!

কাজী হাফিজ   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সীমার বাইরের সিম বন্ধে সময় আবারও বাড়ছে!

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ রাত ১২টার পর সীমার বাইরে সচল থাকা মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রায় সাড়ে ২২ লাখ সিম বা সংযোগ বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোবাইল ফোন অপারেটররা এ বিষয়ে আরো সময় চায়। একই সঙ্গে সীমার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দাবি তাদের। গ্রাহকরা একেকটি অপারেটরের সর্বোচ্চ পাঁচটি করে সিম ব্যবহার করতে পারবে, এমন বিধানও চায় তারা।

গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট শাখার বৈঠক হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিটিআরসি আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা না জানালেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সময় কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে।

সীমার বাইরে থাকা প্রায় সাড়ে ২২ লাখ সিমের মধ্যে রবির সাত লাখ ৮০ হাজার, বাংলালিংকের চার লাখ ৯৫ হাজার, গ্রামীণফোনের চার লাখ ৬৫ হাজার এবং টেলিটকের চার লাখ ৯০ হাজার সিম রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সীমার বাইরে সিমের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে পারে। কারণ বিটিআরসির সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম বা সিবিভিএমপি সার্ভারে এখনো মোবাইল অপারেটররা তাদের সব গ্রাহকের তথ্য দেয়নি।

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুসারে একজন মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৫টির বেশি সিম ব্যবহার করতে পারবে না। এক বছর আগেই এ সিদ্ধান্তের কথা মোবাইল ফোন অপারেটরদের জানিয়ে দিলেও তা এত দিনেও বাস্তবায়ন হয়নি।

বিটিআরসির তথ্য অনুসারে, নির্ধারিত ওই সীমার বাইরে বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকের ধারণা, এসব অতিরিক্ত সিমের বেশির ভাগই ভুয়া ফেসবুক আইডি, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি এবং ভিওআইপির অবৈধ কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেসব গ্রাহকের নামে বা যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এসব সিমের নিবন্ধন দিয়ে চালু রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়।

সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৬ এপ্রিলের শুরুতে বা ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার পরপরই ১৫টির বেশি সিম ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোন নম্বর নিষ্ক্রিয় করা হবে। তার আগে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটররা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের এ বিষয়ে সতর্ক করবে।

ওই সভায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের পক্ষ থেকে গ্রামীণফোনের  প্রতিনিধি  জানান, তাঁদের প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহকের ডাটা সিবিভিএমপি সার্ভারে ইনপুট দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলালিংক প্রতিনিধি জানান, তাঁদেরও প্রায় ১২ হাজার গ্রাহকের একই অবস্থা। আর রবির প্রতিনিধি জানান, তাঁদের ৭০ হাজার গ্রাহক এখনো সিবিভিএমপি সার্ভারের বাইরে রয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৩০ এপ্রিল সিবিভিএমপি সার্ভারের সঙ্গে অপারেটরদের ডাটার সমন্বয় করা হবে। কিন্তু সীমার বাইরের সিমের যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা ওই সমন্বয়ের আগের।

এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা তাদের সিমের সংখ্যা জানার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেষ্টা করেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাচ্ছে না। কয়েকজন গ্রাহক জানান, তাঁরা অন্য অপারেটরের সঙ্গে রবির সিমও ব্যবহার করেন। কিন্তু অন্য অপারেটরদের সিমের তথ্য পেলেও রবির সিম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। 

মোবাইল ফোন সেবায় শৃঙ্খলা আনতে ২০১৬ সালের ১২ জুন গ্রাহকপ্রতি সিমসংখ্যা সর্বোচ্চ ২০টি নির্ধারণ করা হয়। এরপর ওই বছরের ৪ আগস্ট তা কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট বিটিআরসি নির্দেশনা জারি করে যে গ্রাহকরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রাখতে পারবে। এর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে সময়সীমা আরো দুই মাস বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কত সংখ্যক সিম আছে তা জানতে *১৬০০১# ডায়াল করে ফিরতি রিপ্লাইয়ে আইডি নম্বরের শেষ চারটি ডিজিট লিখে পাঠাতে হবে। অথবা আইডি নম্বরের শেষ চারটি ডিজিট লিখে এসএমএস করতে হবে ১৬০০১ নম্বরে। উভয় ক্ষেত্রে ফিরতি এসএমএসে আইডির বিপরীতে সিমের সংখ্যা এবং নম্বরগুলো জানা যাবে। কিন্তু তাতেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, *১৬০০১# নম্বরে সহায়তার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ফিরতি রিপ্লাইয়ে এনআইডি নম্বরের শেষ চার ডিজিট লিখলে জবাব আসছে ‘আইডির শেষ ডিজিট নিবন্ধিত সিমের সাথে ম্যাচ করছে না।’ এ সমস্যা হচ্ছে ১০ ডিজিটের স্মার্ট এনআইডির ক্ষেত্রে। তবে আগের ১৭ বা ১৩ ডিজেটের সাধারণ কাগজে লেমিনেট করা এনআইডি নম্বর ব্যবহার করলে ফল মিলছে। 

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো গ্রাহকের ১৫টির বেশি সিম থাকলে যে সিমগুলো আগে নেওয়া হয়েছে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। বহাল থাকবে পরে নেওয়া ১৫টি সিম। 

সীমার অতিরিক্ত এই সিম বন্ধের বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসারে অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’ একই প্রস্তুতির কথা জানান গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল। মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রবি এ বিষয়ে আরো সময় এবং সীমার ক্ষেত্রে বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্ত পেতে আগ্রহী। একই প্রত্যাশা টেলিটকেরও।

মন্তব্য