kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বন্দর দিবস কাল

চট্টগ্রাম বন্দর নতুন চার জেটি পাচ্ছে

পিসিটির নির্মাণকাজ চলছে দ্রুতগতিতে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দর নতুন চার জেটি পাচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরে ১২ বছর পর যোগ হচ্ছে নতুন চারটি জেটি। এর মধ্যে তিনটি কনটেইনার জেটি এবং একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি। কর্ণফুলী নদীর পানে চট্টগ্রাম ড্রাইডক থেকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাব পর্যন্ত এই চারটি জেটি নিয়ে গড়ে তোলা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে এই টার্মিনাল চালুর নির্ধারিত সময় থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এসব জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়ে পণ্য ওঠানামা শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে ছয় মাস বিলম্ব হলেও নতুন চারটি জেটি যোগ হওয়ার খবরে খুশি বন্দর ব্যবহারকারীরা। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বশেষ জেটি-টার্মিনাল নির্মাণ হয় ২০০৭ সালে—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে ১২ বছরে কোনো নতুন টার্মিনাল-জেটি নির্মিত না হওয়ায় পণ্য উঠানামা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। নতুন এই টার্মিনালের তিনটি কনটেইনার জেটি দিয়ে বছরে সাড়ে চার লাখ একক কনটেইনার পরিবহন করা সম্ভব হবে। ফলে চাপ অনেকটাই সামলানো যাবে বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘বিদ্যমান ১০-১১টি কনটেইনার জেটি দিয়ে আমরা ৩৫ লাখ একক কনটেইনার উঠানামা করতে পারি। পিসিটি অপারেশনে এলে আরো ৪০ শতাংশ বাড়তি কনটেইনার উঠানামা করতে পারব। অর্থাৎ সব মিলে আমরা বছরে ৫০ লাখ একক কনটেইনার উঠানামা করতে পারব। বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়ার জন্য এটা বড় অগ্রগতি।

জানা গেছে, বন্দরের নিজস্ব তহবিলের সাড়ে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নির্মিতব্য এই টার্মিনালের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে ডেলিগেটেড প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলেও জমি বুঝে পেতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি।

নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পিসিটি প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউল হক অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি। পরে পিসিটির প্রকল্প পরিচালক (বন্দর) মিজানুর রহমান সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ত কাজ অর্থাৎ জেটি ও অবকাঠামো কাজের ২৭ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। মূলত প্রকল্পের জমি বুঝে পেতে সাত মাস বাড়তি সময় লাগায় নির্মাণকাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। এর পরও কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় লাগবে। কত দিন বাড়তি লাগবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বন্দর পাইলটরা বলছেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জেনারেল জেটিতে ভিড়তে হলে একটি জাহাজকে কর্ণফুলী নদীর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। আর নদীর মাঝপথে একটি বড় বাঁক (গুপ্ত বাঁক) পেরোতে হয় জাহাজগুলোকে। এ কারণে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটারের বড় জাহাজ বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারে না। পিসিটিতেও এ সমস্যা অতিক্রম করতে হবে। তবে বহির্নোঙরের খুব কাছে হওয়ায় কম দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে জাহাজকে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বহির্নোঙরে আসা একটি কনটেইনার জাহাজকে এনসিটি ও সিসিটিতে ভিড়তে লাগে এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর পিসিটিতে ভিড়তে আধঘণ্টা সময় কম লাগবে।’

পিসিটি নির্মাণ প্রকল্পের মূল কাজ সেনাবাহিনী করলেও যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজটি করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প পরিচালক (বন্দর) মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পে সাড়ে সাত শ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি যোগ করা হচ্ছে। তবে আগেভাগে যন্ত্রপাতি কেনার সুযোগ নেই।’

আগামীকাল ২৫ এপ্রিল বিশ্ব বন্দর দিবস। ১২ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন তিনটি জেটি যোগ হওয়াকে বন্দর দিবসে সবচেয়ে বড় সুখবর বলছেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি এম এ ছালাম। তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবং বন্দরের ধারাবাহিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি বেশ সুফল দেবে। এখন আমাদের চাওয়া, এটির নির্মাণ সময় যেন আর না বাড়ে।’

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল হবে পিসিটি। এখানে দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। রেললাইন সংযুক্ত থাকবে সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ডের সঙ্গে। ইতিমধ্যে ১০ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড হয়েছে। সঙ্গে আরো ছয় একর জায়গায় কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ১৬ একর জায়গায় রেললাইন সংযুক্ত থাকবে পিসিটির সঙ্গে। ফলে জাহাজ থেকে নামিয়ে কনটেইনার কম সময়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য