kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

তৃতীয় দফার ভোটে মুর্শিদাবাদ রক্তাক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তৃতীয় দফার ভোটে মুর্শিদাবাদ রক্তাক্ত

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার ভোটে রক্ত ঝরল। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সংঘর্ষে মারা গেছেন একজন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন অন্তত দুজন। এদিকে ভোট দিতে গিয়ে দাবদাহে কেরালায় মারা গেছে আরো ছয়জন। এদিন ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার বালিগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮৮ নম্বর বুথে কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে গণ্ডগোল বাধে। পরে বুথের বাইরে সেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কংগ্রেসকর্মী আবদুল কালাম টিয়ারুল শেখের পেটে হাঁসুয়ার কোপ মারা হয়। এ ঘটনার পরপরই তাঁকে স্থানীয় নসিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পাঠানো হয় বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আরো এক কংগ্রেসকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতের তালিকায় আছেন তৃণমূলের এক কর্মীও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিয়ারুল ভোট দিয়ে ফেরার সময় তাঁকে গালাগাল করে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। সেখান থেকেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। এরপর তাঁর ওপর আক্রমণ করে লালু নামে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী।

গতকাল ১৩টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১১৭টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারের সাত দফার নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। ভোটগ্রহণ করা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাট এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী আসন কেরালায়।

গতকাল আহমেদাবাদের রনিপ এলাকার বুথে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীদের অস্ত্র আইইডি, আর গণতন্ত্রের শক্তি ভোটার আইডি। আর এই ভোটার আইডির শক্তি অনেক বেশি। তাই সবাই ভোট দিন।’ এর আগে মা হীরাবেন মোদির সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিয়ে আসেন মোদি। এ সময় মোদিকে একটি উত্তরীয় দেন তাঁর মা।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও গতকাল ভোট দিয়েছেন। গুজরাটের গাঁধীনগর কেন্দ্রের প্রার্থী তিনি। তবে তাঁর ভোট আহমেদাবাদে। গতকাল সকালে আহমেদাবাদের নারাণপুরা সাব জোনার অফিসের বুথে ভোট দেন বিজেপি সভাপতি। ভোট দেন তাঁর স্ত্রী সোনাল শাহ।

১১ এপ্রিল থেকে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আগামী ১৯ মে শেষ দফার ভোট হবে। এরপর ২৩ মে ফল জানানো হবে।

দাবদাহে ছয়জনের মৃত্যু : এদিকে গতকাল অসহনীয় গরমে কেরালায় ভোটের লাইনে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে ছয় ভোটার। কর্তব্যরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই পোলিং অফিসারকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কান্নুর লোকসভা কেন্দ্রের তালিপারাম্বার বাসিন্দা বেনুগোপাল মারার ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে প্রবল গরমে দীর্ঘক্ষণ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারান বাদাকারার বাসিন্দা মুদোলি বিজয়ী। কোল্লাম লোকসভা কেন্দ্রের কিলিকলুরে ভোটকর্মীদের সঙ্গে তর্কে মেজাজ হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৩ বছরের মানি। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পারাপ্পুরমে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে থ্রেসয়াক্কুট্টি নামে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে চাকো মাথাই নামে আরো এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে কেরালার পেঝুমপোড়ায়। সূত্র : আনন্দবাজার, এই সময়।

মন্তব্য