kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

সবিশেষ

২৪ বার হেরেও তিনি হাল ছাড়েননি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২৪ বার হেরেও তিনি হাল ছাড়েননি

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনের শিবাজিনগর এলাকার বাসিন্দা বিজয়প্রকাশ খন্দকার। তিনি ২৪টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু কোনোটিতেই জয়ের মুখ দেখতে পাননি। এসব নির্বাচনের মধ্যে আছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন। এর পরও তিনি হাল ছাড়েননি।

গত দুই মাস ধরে ৭৩ বছর বয়সী এ ব্যক্তি এলাকায় ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি জনগণকে দেখাতে চাই, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রে দলীয় রাজনীতি একমাত্র উপায় নয়। আমি আমার মতো আরো স্বতন্ত্র প্রার্থী দেখতে চাই। এর মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি দূর করতে পারব।’

তিনি যে সংসদীয় আসনে লড়ছেন সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া খন্দকার আশা করেন, তিনি একসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে তিনি প্রত্যেক ভারতীয়কে ১৭ হাজার রুপি দেবেন। অন্য জায়গায় খরচ কমালে এ অর্থ দেওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়।

বিজয়প্রকাশ খন্দকার আশির দশক পর্যন্ত মহারাষ্ট্র প্রদেশের বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করেছেন। তাঁকে এখন স্টিলের ঠেলাগাড়ি নিয়ে শহরজুড়ে ঘুরতে দেখা যায়। গাড়িটিতে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক লাগানো আছে। সেখানে লেখা আছে, ‘বুট জুতার বিজয়’। কারণ তাঁর নির্বাচনী প্রতীক বুট জুতা। তিনি যখন ঠেলাগাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তখন এটি এক মজার পরিবেশ তৈরি করে। অনেকে তাঁকে উপেক্ষা করে। আবার অনেকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চায়।

২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ৩০০০ স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন জয়লাভ করেছিলেন। দেশটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফল করেছিলেন ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে। তখন ৫৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভারতের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যেসব প্রার্থী জাতীয় রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পান, তাঁদের নাম ব্যালট পেপারের সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকে। এরপর থাকে প্রাদেশিক দলগুলোর প্রার্থীদের নাম। সব শেষ থাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নাম।

নির্বাচনের জন্য বিজয়প্রকাশ খন্দকার তাঁর ডাকনাম পরিবর্তন করেছেন, যেটির প্রথম অক্ষর শুরু হয়েছে ইংরেজি সর্বশেষ বর্ণ ‘জেড’ দিয়ে। ব্যাটল পেপারে নাম সবার শেষে রাখার জন্য তিনি নামের এ পরিবর্তন করেছেন। বিজয়প্রকাশ বলেন, ‘ভোটারদের কাছে আবেদন, ব্যালট পেপারে সব শেষ প্রার্থীকে ভোট দিন।’ সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য